জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেছেন, স্বাধীনতা দিবস কোনো সাধারণ উদযাপনের দিন নয়, এটি আমাদের জাতির আত্মপরিচয় ও ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একটি শিশুর জন্মতারিখ একটিই হয়, তেমনি বাংলাদেশের জন্মও একটিই, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। এর সাথে অন্য কোনোকিছুর তুলনা চলে না। এই দিবস আমাদের ত্যাগ, সংগ্রাম ও আত্মদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং সেই চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)’র উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলনে বাংলাদেশের মানচিত্র অঙ্কনের কর্মসূচির মাধ্যমে আয়োজনটি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (২৬শে মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা ৩০মিনেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় পাঠ্যপুস্তকে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের এমন একটি বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস প্রয়োজন, যা কোনো দল বা পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি নয়, বরং সত্যনির্ভর ও সবার জন্য গ্রহণযোগ্য হবে। নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্তিমুক্ত, সঠিক ইতিহাস জানানো জরুরি, যাতে তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও সমন্বিত বাংলাদেশ গড়তে পারে।
আয়োজন সম্পর্কে জাকসুর সহসভাপতি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাকসুর পক্ষ থেকে ১৯৭১ এর চেতনা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। একপাক্ষিক ইতিহাস থেকে বের হয়ে মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা জরুরি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে একটি সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা রাখি।
এ সময় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের সহসভাপতি আব্দুর রশিদ জিতুর সঞ্চালনায় প্রোগ্রামটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রব, প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম, জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক শেখ জিসান জিসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


