জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর ব্যানারে ‘গণভোট অস্বীকার ও অধ্যাদেশ বাতিলের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রে প্রবেশ এবং সংকটের পথে দেশ’ শিরোনামে আয়োজিত সেমিনারকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির ভেতরে অসন্তোষ, একতরফা সিদ্ধান্ত এবং নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ জিতু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে বিষয়টি জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, জাকসু একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সকল সদস্যের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মতামত থাকা প্রয়োজন। কিন্তু আলোচিত সেমিনার আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো আনুষ্ঠানিক সভা হয়নি এবং সদস্যদের সঙ্গে ন্যূনতম আলোচনা ছাড়াই ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়েছে।
সেমিনারের অতিথি নির্বাচন, বাজেট নির্ধারণ, সময়সূচি ও আয়োজনের উদ্দেশ্য- কোনো বিষয়েই সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রমাণ নেই। এমনকি জাকসুর সহ-সভাপতি ও সভাপতির সঙ্গেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি এবং প্রচারণার আগেই বিষয়টি তাদের অবহিত করা হয়নি।
এ বিষয়ে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ জাকসুর গণতান্ত্রিক চর্চাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। জাকসুর নামে কোনো কর্মসূচি নিতে হলে গঠনতন্ত্র মেনে সবাইকে অবগত করে অফিসিয়াল মিটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাউকে না জানিয়ে, হঠাৎ পোস্টার দিয়ে বা এককভাবে সেমিনার আয়োজন করা গ্রহণযোগ্য নয়- এটা ঠিক হয়নি।’
এদিকে বিষয়টি নিয়ে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক প্রাথমিকভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে চূড়ান্ত সময়ে ভিপির ব্যস্ততা থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে পাশ কাটিয়ে মতামত নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অসমীচীন। আমরা ছাত্রদলসহ অন্যান্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। মতামতের বিষয়টি সমাধানে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।’


