ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ককে মারধর ও চিকিৎসক লাঞ্ছনার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ 

জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ১২:৪৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (এসএসএমসি) মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের সংঘর্ষের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উক্ত ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের ওপর মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (২৪ জুন) থেকে চিকিৎসক লাঞ্ছনার ঘটনায় বিচার চেয়ে ৪ দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেছেন হাসপাতালটির ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

হাসপাতাল সূত্র ও চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে অসুস্থ এক রোগীকে মিটফোর্ড হাসপাতালে আনা হয়। ভর্তিসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগলে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এসএসএমসি মিটফোর্ড হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি সার্জারি ভবনের ৪২৯ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করে সহকারী রেজিস্ট্রার, ট্রেইনি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। সংগঠনটি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছে।

হাসপাতালের একাধিক ইন্টার্ন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘটনার সময় উপস্থিতদের মধ্যে মেহেদী হাসান হিমেলও ছিলেন। একজন চিকিৎসকের দাবি, উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে হিমেল নিজের পরিচয় দিয়ে বারবার বলছিলেন, আমাকে চিনস? ‘আমি জগন্নাথ ছাত্রদলের আহ্বায়ক।’

তবে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ডা. দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, ‘ঘটনাস্থলে কোনো সিসিটিভি ফুটেজ না থাকায় কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’

সংঘর্ষের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে চিকিৎসকদের প্রতিরোধের মুখে হিমেল হাসপাতালের একটি টয়লেটে আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে সেখান থেকে বের করে আনা হয়।

এদিকে ঘটনার পর আহত অবস্থায় হিমেল ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন রাজধানীর ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অমির নামে ৪০১৩ নম্বর কেবিন নেওয়া হয়, যার তত্ত্বাবধানে ছিলেন অর্নব নামে একজন। একই সময়ে ৪০১৮ নম্বর কেবিনও নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা গ্রহণের পর বুধবার দুপুরে তারা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফিরে যান।

ঘটনার প্রতিবাদে চার দফা দাবি ঘোষণা করেছে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রতিটি ওয়ার্ড ইউনিটের বাইরে অন্তত চারজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

সংগঠনটি জানিয়েছে, দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালের সব বিভাগে তাদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "ঘটনাটি যেভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে, বাস্তবে বিষয়টি তেমন নয়। ইতোমধ্যে মীমাংসা হয়েছে।"

এছাড়াও তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করে জানান, "গতকাল রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আমার বন্ধু অহিদুর রহমান নিক্সন তার স্ত্রীকে (রোগী) নিয়ে গতকাল সন্ধ্যা থেকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে দৌড়াদৌড়ি করছে। তার স্ত্রীর গাইনি সমস্যায় বাসা থাকায় অবস্থায় '৩ ঘন্টা ধরে ব্লিডিং' হচ্ছিল। হাসপাতালে তার ছোটাছুটি ও অসহায়ত্ব আর্তনাদ শুনে আমি সাথে সাথে ছুটে যায় সেখানে। তখন রাত ১ টা। আমি দায়িত্বরত চিকিৎসকদের অনুরোধ করলে তারা কোনো মানবিক দিক চিন্তা না করে আমার সঙ্গে বাজে ব্যবহার করে এবং ৩ ঘন্টা ধরে তাঁর স্ত্রীকে মেঝেতে শুয়ে রাখে। একপর্যায়ে আমি জবি ছাত্রদলের আহবায়ক পরিচয় দিয়ে ওয়ার্ডে নিয়ে চিকিৎসা দিতে অনুরোধ করলে তারা উত্তেজিত হয়ে আমার সঙ্গে দুর্ব্যহার করে। তখন আমি বলি পরিচালকের নম্বর দেন আমি তার সঙ্গে কথা বলব,' তখন তারা পরিচালকের নাম্বার না দিয়ে বলে আপনি ক্যান্টনমেন্টে যান তার নম্বর নিতে। ওই সময় আমার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছোট ভাই প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষ বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এরমধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আমি উভয় পক্ষকে থামাতে গেলে তারা সঙ্ঘবদ্ধভাবে মব সৃষ্টি করে আমাদের ওপর। এরপর হল থেকে শিক্ষার্থীদের মিথ্যা ব্যাখ্যা দিয়ে পুনরায় মব সৃষ্টির চেষ্টা করলে তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে উভয় পক্ষকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসে।"

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, "রাতে একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। আমাদের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।"