হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)-এর ড. খুদরত-ই-খুদা অ্যাকাডেমিক ভবনের লিফটগুলো যেন শিক্ষার্থীদের জন্য মরণফাঁদ। দুই দিন পরপরই শিক্ষার্থীসহ লিফটগুলো আটকে যাচ্ছে। ফলে লিফটে উঠতে গেলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে।
২০১৮ সালের ১৭ মে প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ তলা বিশিষ্ট ড. খুদরত-ই-খুদা অ্যাকাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এবং দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর পর ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর দশতলা এই ভবন উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনের পর থেকেই ভবনটির ৭টি লিফট নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিড়ম্বনা যেন কাটছেই না। এই ১০ তলা ভবনের ৭টি লিফটের মধ্যে ৫টিই প্রায় সময় নষ্ট হয়ে বন্ধ থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। শুধু তাই নয়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের লিফটে আটকে যাওয়ার মতো ঘটনা যেন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লিফট নষ্ট হয়ে বন্ধ থাকা এবং লিফটে আটকে যাওয়ার ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তাজমুল ইসলাম বলেন, ‘চীনের দুঃখ যেমন হোয়াংহো, হাবিপ্রবির দুঃখ লিফট। লিফটে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায়ই শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা মাঝপথে আটকে পড়ছেন। ৩০ মিনিট বা তার বেশি সময় অন্ধকার লিফটে আটকে থাকার ঘটনা আমাদের মধ্যে মানসিক ট্রমা বা ‘লিফট আতঙ্ক’ তৈরি করেছে। লিফটে আটকে যাওয়ার কারণে আমি ও আমার কয়েকজন বন্ধু কুইজ পরীক্ষা দিতে পারিনি। প্রশাসনকে অনেকবার জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থী নাদিম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত দ্রুত লিফট সমস্যার সমাধান করা। তাদের উদাসীনতার জন্যই কয়েকদিন পরপর শিক্ষার্থীরা লিফটে আটকে যাচ্ছে। কোনো শিক্ষার্থীর জীবনহানির ঘটনা ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন শাখার পরিচালক (অতিরিক্ত) অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান বাহাদুর বলেন, ‘১০ তলা ভবনটি মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা। তখন কী মানের লিফট দেওয়া হয়েছিল, সে সম্পর্কে আমরা তেমন অবগত নই। তবে ভবনটি উদ্বোধনের পর বিগত প্রশাসন লিফট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো লোক নিয়োগ দেয়নি। ফলে সময়মতো সার্ভিসিং না হওয়ায় সমস্যা দেখা দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত ওজনের কারণে মাঝে মাঝে লিফটে সমস্যা হয়। তাই শিক্ষার্থীদের লিফটে দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলা উচিত। দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা লিফটের সার্ভিসিংয়ের জন্য লোক নিয়োগ দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি ঠিকভাবে কাজ না করায় তার নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। খুব দ্রুতই নতুন করে লোক নিয়োগ দেওয়া হবে। আশা করি, তখন আর এমন সমস্যা থাকবে না।’



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন