ভারতীয় সংগীতাকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র আশা ভোঁসলে আর নেই। দীর্ঘ রোগভোগের পর গত রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজী পার্কে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
শেষ শ্রদ্ধায় জনস্রোত
কিংবদন্তি এই শিল্পীর প্রয়াণে সোমবার সকাল থেকেই মুম্বাইয়ের লোয়ার পারেলে তার বাসভবনের সামনে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। সংগীত ও অভিনয় জগতের তারকা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং অগণিত অনুরাগী তাকে শেষবার দেখার জন্য সমবেত হন। অন্তিম যাত্রার আগে ভারতের জাতীয় পতাকায় মুড়িয়ে দেওয়া হয় তার শায়িত দেহ; প্রদান করা হয় রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস নিজে উপস্থিত হয়ে প্রয়াত শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ ছাড়া ক্রিকেট মহাতারকা শচীন টেন্ডুলকার, বলিউড তারকা সঞ্জয় দত্ত, টাবু, রিতেশ দেশমুখসহ অসংখ্য গুণীজন উপস্থিত ছিলেন।
অসুস্থতা ও প্রয়াণ
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১১ এপ্রিল) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আশা ভোঁসলে। হৃদরোগ ও তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার পাশাপাশি চিকিৎসকরা তার শরীরে ‘মাল্টি-অর্গান ফেলিওর’ শনাক্ত করেন। হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় রোববার জীবনের সুর থেমে যায় ৯২ বছর বয়সি এই সুর সম্রাজ্ঞীর।
অমর সৃষ্টি ও প্রাপ্তি
দীর্ঘ সাত দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ভারতীয় বিভিন্ন ভাষায় হাজার হাজার গান রেকর্ড করেছেন আশা ভোঁসলে। তার অতুলনীয় কণ্ঠ আর বৈচিত্র্যময় গায়কী তাকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দিয়েছে। সংগীতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেছেন ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কার। ২০০৮ সালে ভারত সরকার তাকে ‘পদ্মভূষণ’ পদকে ভূষিত করে। এ ছাড়া ১৯৯৭ সালে প্রথম ভারতীয় সংগীতশিল্পী হিসেবে তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড’-এর মনোনয়ন লাভ করেছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন