ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

প্রতিবাদে কেন ডিম ছোড়া হয়?

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
ছবি এ আই দিয়ে তৈরি।

প্রতিবাদে ডিম ছোড়া একটি দীর্ঘকালীন বৈশ্বিক সংস্কৃতি। রাজনৈতিক নেতা বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে এটি বেশ জনপ্রিয় পদ্ধতি। কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের সফর, আবার কখনো কোনো বিতর্কিত ব্যক্তির সংবাদ সম্মেলনে হঠাৎ করে উড়ে আসে এক বা একাধিক ডিম।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারের সময় ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনা চলছে। অবশ্য এর আগে অনেকের সঙ্গেই এমন ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে কেন বারবার ডিমকেই বেছে নেওয়া হচ্ছে?

ডিম নিক্ষেপের মতো কাজকে অনেকে অশোভন বা অন্যায় আচরণ মনে করলেও এর পেছনে রয়েছে অনেক পুরোনো বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাস। রাজপরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী বা মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন, এমন ব্যক্তিদের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করতেও ডিম ছোড়ার ইতিহাস রয়েছে। শুধু ডিম নই, পচনশীল খাদ্যদ্রব্য ছোড়ার প্রচলও মধ্যযুগ থেকেই।

প্রতিবাদে ডিম ছোড়ার ইতিহাস

প্রাচীন যুগে শাসকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশে খাবার নিক্ষেপ করা হতো। রোমান শাসক ভেসপাসিয়ানের কঠোর নীতির কারণে ৬৩ সালে ক্ষুব্ধ জনগণ তার ওপর শালগম ছুড়ে মেরেছিল বলে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যযুগে ঘৃণা ও শাস্তির অংশ হিসেবে কারাবন্দিদের ওপর ডিম ছুড়ে মারার নজির রয়েছে। বন্দিদের একটি নির্দিষ্ট কাঠের ফ্রেমে বেঁধে রাখা হতো এবং বিক্ষুব্ধ জনগণ তাদের ওপর ডিম ছুড়ে মারত।

ইংরেজ লেখিকা জর্জ এলিয়ট ১৮৩০ এর দশকের পটভূমিতে লেখা উপন্যাস ‘মিডলমার্চে’ ডিম ছোড়ার ঘটনা রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার ১৯৯০ সালের নির্বাচনে এবং তার আগে ছাত্র আন্দোলনের সময় ডিম হামলার শিকার হয়েছিলেন। যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজর ১৯৯২ সালের মে মাসে সাউদাম্পটনে একটি নির্বাচনি প্রচারের সময় এমন ঘটনার শিকার হন।

যুক্তরাষ্ট্রে হলিউড তারকা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার ২০০৩ সালে এমন প্রতিবাদের শিকার হন। ক্যালিফোর্নিয়ায় গভর্নর পদে নির্বাচনের প্রচারণার সময় এক জনসভায় এক ব্যক্তি তার ওপর ডিম ছুড়ে মারেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় ২০০৪ সালে ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ এমন আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন।

প্রতিবাদে ডিম ছোড়ার জনপ্রিয়তা বেড়েছে যে কারণে

প্রতিবাদের সরল, সস্তা ও কার্যকর উপায় হিসেবে ডিম ছোড়া দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর জনপ্রিয়তার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে।

ডিম ছোড়া শারীরিক আঘাতের চেয়ে বেশি লজ্জা বা অপমানের প্রতীক। নেতা বা পরিচিত ব্যক্তির গায়ে ডিম লেগে তার গাম্ভীর্য জনসমক্ষে মুহূর্তেই হারিয়ে যায়। বাজারে সহজে পাওয়া যায় এমন সস্তা ডিম সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক ক্ষোভ প্রকাশের উপযুক্ত হাতিয়ার।

ডিমের আঠালো ও দুর্গন্ধযুক্ত দাগ লক্ষ্যবস্তুর গায়ে দৃশ্যমান থাকে এবং ক্যামেরার সামনে সহজে লুকানো যায় না। আগ্নেয়াস্ত্র বা বড় পাথর নিক্ষেপের চেয়ে ডিম নিক্ষেপ সাধারণত প্রাণঘাতী নয়। তাই শাস্তি তুলনামূলকভাবে কম হয়।