নাকের ডগায় নির্বাচন। উৎসবের আমেজে মেতেছে দেশ। প্রচারে ব্যস্ত প্রার্থীরা, ভোটারদের কাছে ছুটছেন এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। আর ভোটাররাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন নিজেদের পছন্দের প্রার্থী বেছে নিতে। তবে যারা প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছেন, তাদের জন্য এই অভিজ্ঞতা যেমন আনন্দের, তেমনি কিছুটা সতর্কতারও।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ৩০০ আসনের এই নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষমতা সরাসরি ভোটারদের হাতে। প্রতি নির্বাচনেই বিপুলসংখ্যক নতুন ভোটার প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রে যান। কিন্তু সামান্য একটি ভুলে বাতিল হয়ে যেতে পারে মূল্যবান ভোট। তাই সঠিক নিয়ম জানা জরুরি।
ভোট দিতে হলে আগে জানতে হবে নিজের ভোটকেন্দ্র কোথায়। এ জন্য স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ ডাউনলোড করে মোবাইল নম্বর, বয়স ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিলে ভোটার তথ্য এবং ভোটকেন্দ্রের অবস্থান জানা যাবে। অ্যাপ ব্যবহার করতে না পারলে নির্বাচন কমিশনের হেল্পলাইন ১০৫ নম্বরে ফোন করেও তথ্য নেওয়া যায়।
ভোটগ্রহণ চলবে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের পরে ভোটকেন্দ্রে গেলে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে না- এ বিষয়টি নতুন ভোটারদের বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার।
ভোটের দিন ভোটারের সঙ্গে থাকতে হবে কেবল ভোটার স্লিপ। এই স্লিপে ভোটারের নাম ও সিরিয়াল নম্বর উল্লেখ থাকে। সাধারণত স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে ভোটার স্লিপ বিতরণ করা হয়। এখনো যারা স্লিপ পাননি, তাদের দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে ভোটার স্লিপ দেখালে নির্বাচনী কর্মকর্তারা সিরিয়াল নম্বর যাচাই করে ভোটারের নাম চিহ্নিত করবেন। এরপর আঙুলে দেওয়া হবে অমোচনীয় কালি, যাতে কেউ একাধিকবার ভোট দিতে না পারে।
এরপর ভোটারকে প্রতীকের ছবিসহ সংসদ নির্বাচনের ব্যালট, একটি গণভোটের ব্যালট এবং একটি স্ট্যাম্প দেওয়া হবে। এবার পর্দাঘেরা নির্দিষ্ট গোপন কক্ষে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকে স্ট্যাম্প দিয়ে ছাপ দিতে হবে। এবারের নির্বাচনে একজন ভোটারকে একসঙ্গে দুটি ভোট দিতে হবে- একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, অন্যটি গণভোটে।
স্ট্যাম্প দেওয়ার পর ব্যালট নির্দিষ্ট নিয়মে লম্বালম্বিভাবে ভাঁজ করতে হবে, যেন কালি অন্য প্রতীকে না লাগে। এরপর ব্যালট বাক্সে ফেললেই ভোটদান সম্পন্ন হবে। কোনো ধাপে দ্বিধা হলে ভোটকেন্দ্রে থাকা কর্মকর্তাদের সাহায্য নেওয়া যাবে।
ভোট দিতে গিয়ে ভুল করে অন্য প্রতীকে ছাপ পড়লে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সে ক্ষেত্রে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে ব্যালট ফেরত দিয়ে নতুন ব্যালট নেওয়া যাবে। নষ্ট ব্যালট আলাদা করে সংরক্ষণ করা হবে।
ভোটকেন্দ্রে গিয়ে যদি দেখা যায় অন্য কেউ আগেই আপনার ভোট দিয়ে দিয়েছে, তাহলে কেন্দ্র ত্যাগ না করে সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা টেন্ডারড ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেবেন।
অন্ধ বা প্রতিবন্ধী ভোটার কিংবা যাদের সহায়তা প্রয়োজন, তারা একজন সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে ভোটকক্ষে যেতে পারবেন। সহকারী ভোটারের উপস্থিতিতেই ব্যালটে ভোট দেবেন।
প্রথমবার ভোট দেওয়ার আনন্দে অনেকেই ছবি তুলতে চান। ছবি তোলা যাবে, তবে অবশ্যই ভোটকেন্দ্রের বাইরে। কেন্দ্রের ভেতরে ছবি তোলা নিষিদ্ধ।
সচেতনতা আর সঠিক নিয়ম মেনেই নিশ্চিত করা যায় নিজের ভোটের সঠিক মূল্যায়ন। প্রথমবার ভোট হোক গর্বের, ভুলে নয়।


-20260209175600.webp)
সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন