করোনাকালীন সময়ের মতো আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনমুখী হচ্ছে। মূলত ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের প্রভাবে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশের শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার জন্য সরকার অনলাইন ও অফলাইনে সমন্বিত (ব্লেন্ডিং) পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে সরকার। এর ফলে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণের জন্য স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ-কম্পিউটারের ব্যবহার বাড়তে পারে।
একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে অনলাইন ক্লাসের বিষয়টি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জানানো হবে। আপাতত, সপ্তাহে ছয় দিনই ক্লাস হবে। এর মধ্যে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সরাসরি (সশরীরে) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস নেওয়া হবে। শিক্ষকরা স্কুলে এসে ক্লাস নেবেন। জোড়-বিজোড় দিন ভাগ করে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস আয়োজন করা হতে পারে।’
অনলাইন ক্লাসের জন্য কোনটা বেশি উপযোগী—মোবাইল না ল্যাপটপ?
ল্যাপটপের বড় স্ক্রিন চোখের স্বস্তি দেয়, অ্যাসাইনমেন্ট টাইপিই সহজ। মোবাইল কেবল দ্রুত ক্লাস জয়েন করা বা বিডিও দেখার জন্য ভালো, তবে কাজের জন্য কম্পিউটার (ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ) উত্তম।
কেন ল্যাপটপ ভালো?
১. মাল্টিটাস্কিং: ল্যাপটপে একই সাথে নোট নেওয়া ও ব্রাউজ করা সহজ।
২. বড় স্ক্রিন: বড় স্ক্রিন হওয়ায় পড়াশোনায় মানোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং চোখের আরাম—চোখের ওপর চাপ কম পড়ে। এ ছাড়া একসাথে একাধিক ট্যাব বা উইন্ডো খুলে কাজ করার সুবিধা ল্যাপটপেই বেশি।
৩. ক্যামেরো ও স্থায়িত্ব: অনলাইন মিটিং বা ক্লাসের জন্য কম্পিউটারের বিল্ট-ইন ওয়েব ক্যামেরা মোবাইলের চেয়ে সুবিধাজনক।
৪. স্থির মনোযোগ: মোবাইলে ক্লাস করার সময় সোশ্যাল মিডিয়া নোটিফিকেশন বা ফোনের কল মনোযোগ নষ্ট করার বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ল্যাপটপ ব্যবহারের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট পড়ার পরিবেশ তৈরি করা সহজ হয়।
মোবাইল ব্যবহারের সুবিধা:
১. পোর্টেবিলিটি: মোবাইল ফোন সহজে বহনযোগ্য। মোবাইলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি পকেটে বা হাতে নিয়ে যেকোনো জায়গায় যাওয়া যায়। ভ্রমণে বা বাড়ির বাইরে ল্যাপটপ সেটআপ করার সুযোগ নেই। তখন মোবাইল ব্যবহার করেই ক্লাসে যুক্ত হওয়া সম্ভব।
২. সহজলভ্যতা ও সাশ্রয়ী: মোবাইল ফোন সাশ্রয়ী। যে-কেউ চাইলে কয়েক হাজার টাকায় একটি নতুন অথবা সেকেন্ড হ্যান্ডেট স্মার্টফোন ব্যবস্থা করা যায়। তা ছাড়া এখন প্রায় সব অভিভাবকের হাতেই স্মার্টফোন থাকে।
৩. ছবি শেয়ারিং: ক্লাস চলাকালীন যদি হাতে লেখা কোনো নোট বা অ্যাসাইনমেন্ট তৎক্ষণাৎ শিক্ষককে দেখাতে হয়, তবে মোবাইলের ক্যামেরা ব্যবহার করা ল্যাপটপের চেয়ে অনেক সহজ। সরাসরি ছবি তুলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মেসেঞ্জার বা ক্লাসরুমে আপলোড করা যায়।

