ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

পেন গান কী, হঠাৎ কেন আলোচনায়?

শাওন বিশ্বাস
প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
পেন গান। ছবি : সংগৃহীত

পকেটে রাখা সাধারণ একটি কলম, যা মুহূর্তেই রূপ নিতে পারে প্রাণঘাতী মরণাস্ত্রে। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ স্টিলের কলম মনে হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে পয়েন্ট ২২ ক্যালিবারের বুলেট। সম্প্রতি ঢাকার অপরাধ জগতে এই ‘পেন গান’ বা ‘কলম পিস্তল’ নতুন এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুরান ঢাকার নয়াবাজারে এক যুবদল কর্মীকে হত্যাচেষ্টার তদন্ত করতে গিয়ে এই চাঞ্চল্যকর অস্ত্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। ইতোমধ্যে এই চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করেছে এই বিশেষ আগ্নেয়াস্ত্র।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মো. নাসিরুল ইসলাম বলেন, নয়াবাজারের ঘটনার পর থেকেই আমরা ছায়া তদন্ত চালাচ্ছিলাম। প্রথমে যাত্রাবাড়ী থেকে সাইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়, পরে কেরানীগঞ্জ থেকে কাল্লুকে ধরা হয়। কাল্লুর কাছ থেকে পেন গান উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, এটি কোনো সাধারণ আগ্নেয়াস্ত্র নয়। এর আগে ঢাকাতে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের কোনো রেকর্ড আমাদের কাছে নেই। এটি কীভাবে দেশে এসেছে, কারা এর কারিগর বা পাচারকারী এবং অন্য কোথাও এর ব্যবহার হয়েছে কি না, তা বের করতে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি (পেন গান) একটি সিগারেটের প্যাকেটের ভেতরে লুকিয়ে রাখা ছিল। পুলিশ সন্দেহ করছে, এটি ভারত বা পাকিস্তান থেকে পাচার হয়ে আসতে পারে। 

গ্রেপ্তারকৃত আসামি পুলিশকে জানিয়েছেন, অস্ত্রটি ৮০ হাজার টাকায় কেনা হয়েছিল এবং এটি বেশি দামে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল। 

পেন গান মূলত একটি সিঙেল শট আগ্নেয়াস্ত্র। সাধারণ একটি বলপয়েন্ট কলমের ভেতরেই এতে বসানো থাকে ফায়ারিং পিন, স্প্রিং এবং অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি ব্যারেল। এর সবচেয়ে ভীতিজনক দিক হলো এর বহনযোগ্যতা। যেকোনো ভিড়ের মধ্যে বা সাধারণ তল্লাশিতে এটি শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের অপরাধী ও গ্যাং মেম্বারদের কাছ থেকে এ ধরনের ক্ষুদ্র অস্ত্র উদ্ধার করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, বিশেষ করে গুপ্তহত্যা বা অতর্কিত হামলার ক্ষেত্রে অপরাধীরা এই পেন গানকে বেছে নিচ্ছে। কারণ এটি ব্যবহারের পর খুব সহজেই সাধারণ কলম হিসেবে ফেলে দেওয়া বা লুকিয়ে রাখা যায়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাড়িতে বসেই এসব তৈরি করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই পেন গান রাখা বা বহন করা ‘অস্ত্র আইন’ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এর কোনো বৈধ লাইসেন্স হয় না।