আজ ছুটির দিন। কেউ ভেবেছিলেন একটু বিশ্রাম নেবেন, কেউ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাবেন, কেউ আবার নিজের পছন্দের কোনো শখে ডুবে থাকবেন। কিন্তু দিন গড়াতে গড়াতে কি খেয়াল করছেন অর্ধেক সময় কেটে গেছে শুধু মোবাইল স্ক্রল করেই?
এখনো যদি মনে না হয়, সন্ধ্যা নামলেই প্রশ্নটা মাথায় আসবে ছুটির দিনটা কোথায় গেল?
এই অনুভূতি একেবারেই ব্যক্তিগত নয়। গবেষণাও বলছে, উদ্দেশ্যহীনভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় স্ক্রল করার অভ্যাস আমাদের সময়ের অনুভূতি ও বিনোদনের অভিজ্ঞতাকে বদলে দিচ্ছে।
স্ক্রলিং: আনন্দ, না শূন্যতা?
অনেকেই স্ক্রলিংকে একঘেয়েমি দূর করার সহজ উপায় মনে করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ভিডিওভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে দ্রুত ভিডিও বদলানো বা লাগাতার স্ক্রল করা আসলে বোরডম আরও বাড়ায়।
মনে হয়, কিছু দেখলাম, জানলাম-কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো মানসিক পূর্ণতা তৈরি হয় না। বরং এক ধরনের ফাঁপা অনুভূতি জমতে থাকে।
আরেকটি গবেষণা বলছে, যখন আমরা কোনো স্পষ্ট উদ্দেশ্য ছাড়াই একই কাজ বারবার করতে থাকি-যেমন এলোমেলো স্ক্রলিং-তখন সময়ের অনুভূতি বিকৃত হয়ে যায়। কখনো সময় খুব দ্রুত চলে যায়, আবার কখনো অল্প সময়ও দীর্ঘ বলে মনে হয়। এই পরিবর্তিত সময়বোধই ছুটির দিনটাকে ‘অদৃশ্য’ করে দেয়।
স্ক্রলিংয়ের মানসিক প্রভাব
মনস্তাত্ত্বিকভাবে উদ্দেশ্যহীন ফোন ব্যবহার আমাদের মনোযোগ ছিন্নভিন্ন করে দেয়। সময় কীভাবে কেটে গেল, তা বুঝে ওঠার আগেই তৈরি হয় অপরাধবোধ-‘আজ সারাদিন কিছুই করলাম না!’
এই শূন্যতা ধীরে ধীরে মানসিক ক্লান্তি বাড়ায়। অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন-টাইম ঘুমের ওপরও প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে রাতে ফোন স্ক্রল করলে ঘুমের মান কমে যায়, যা পরের দিনের মন-মেজাজ ও কর্মক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।
কেন ছুটির দিনে স্ক্রলিংই ডিফল্ট হয়ে যায়?
স্মার্টফোন এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিনোদন, তথ্য, সামাজিক যোগাযোগ-সবকিছু এক জায়গায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ফোন ব্যবহারের প্রায় ৫০ শতাংশ সময় কাটে বিনোদন ও সোশ্যাল মিডিয়ায়।
কিন্তু এই আনন্দ বেশিরভাগ সময়ই ক্ষণস্থায়ী। তাৎক্ষণিক উত্তেজনা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তৃপ্তি দেয় না। ফলে ছুটির দিনেও আমরা আর সত্যিকারের বিশ্রাম অনুভব করি না।
শুধু ‘রিল’ নয়, ছুটিটাকে জীবন্ত করুন
ছুটির দিন মানে শুধু কাজ না থাকা নয়-ছুটির মানে মানসিকভাবে রিচার্জ হওয়া। আজকের দিনটাই হতে পারে সচেতন বিরতির শুরু।
কিছু সহজ অভ্যাস আপনাকে সাহায্য করতে পারে-
১. ডিজিটাল বিরতি দিন
নির্দিষ্ট সময় ফোন দূরে রাখুন। প্রয়োজনে নোটিফিকেশন বন্ধ করুন।
২. অফলাইন কাজে ফিরুন
হাঁটতে বের হওয়া, বই পড়া, গান শোনা বা পরিবারের সঙ্গে গল্প-এসব কাজ মন ও সম্পর্ক দুটোই সমৃদ্ধ করে।
৩. মনোযোগের লক্ষ্য ঠিক করুন
স্ক্রলিংয়ের বদলে নির্দিষ্ট কোনো কাজ ঠিক করলে সময়ের ব্যবহার অর্থবহ হয়।
ছুটির দিন যদি শুধু মোবাইলের স্ক্রিনে গড়িয়ে যায়, তাহলে ক্ষতিটা আপনারই-
মানসিক শান্তি, সম্পর্কের উষ্ণতা আর প্রকৃতির স্বাদ-সবকিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আপনি।
সময়কে সচেতনভাবে উপভোগ করলে ছুটির শেষে মনে হবে-আজ সত্যিই ছুটি ছিল।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন