রমজান মাসে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া একটি সাধারণ সমস্যা। রমজানে দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকার কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, যা থেকে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI)-এর ঝুঁকি বেড়ে যায়। সঠিক সচেতনতা এবং খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলে এই অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
১. কেন এই সমস্যা হয়?
পানিশূন্যতা : দীর্ঘ সময় পানি না খাওয়ার ফলে শরীর থেকে টক্সিন বের হতে পারে না এবং প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়।
লবণাক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার : ইফতারে অতিরিক্ত তেল-মসলা ও লবণযুক্ত খাবার খেলে প্রস্রাবের এসিডিটি বাড়তে পারে।
প্রস্রাব আটকে রাখা: সেহরি বা ইফতারের পর অলসতার কারণে দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখলে টেব্যাকরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
২. প্রধান লক্ষণসমূহ
প্রস্রাব করার সময় প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হওয়া।
প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ বা লালচে হওয়া।
ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া কিন্তু পরিমাণে কম হওয়া।
তলপেটে অস্বস্তি বা ব্যথা।
ইফতার থেকে সেহরি, এই সময়ের মধ্যে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি অল্প অল্প করে পান করুন। একবারে বেশি পানি না খেয়ে বিরতি দিয়ে পান করা ভালো। খাদ্য নির্বাচনে, ‘ইফতারে শসা, তরমুজ, ডাব এবং দইয়ের মতো পানি সমৃদ্ধ ও ঠান্ডা খাবার রাখুন।’
বর্জনীয় খাবারের তালিকায় ‘অতিরিক্ত চা, কফি, এবং কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন। এগুলো শরীরকে আরও পানিশূন্য করে ফেলে।’
ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতায় হিসেবে, প্রস্রাব আটকে না রেখে নিয়মিত মূত্রত্যাগ করুন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
৪. ঘরোয়া কিছু টিপস
ক্র্যানবেরি বা লেবুর শরবত : ক্র্যানবেরি জুস বা ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ লেবুর শরবত ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে সাহায্য করে।
ডাবের পানি : এটি শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখে এবং জ্বালাপোড়া কমায়।
যদি জ্বালাপোড়ার সঙ্গে জ্বর, পিঠে প্রচণ্ড ব্যথা বা রক্ত যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এটি কিডনিতে সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে।


