ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

থাইরয়েড কী ও কেন হয়? এর লক্ষণ ও আধুনিক চিকিৎসা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
থাইরয়েড কী ও কেন হয়? ছবি : সংগৃহীত

থাইরয়েড আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থি হলেও এটি নিয়ে মানুষের মনে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। গলার সামনের দিকে প্রজাপতির মতো দেখতে ছোট্ট একটি গ্রন্থির নাম ‘থাইরয়েড’। আকারে ছোট হলেও আমাদের শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন এবং হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় এর ভূমিকা অপরিসীম। বর্তমানে থাইরয়েডজনিত সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। তবে সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা করলে এই সমস্যা নিয়ে সুস্থ জীবন যাপন করা সম্ভব।

থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে মূলত দুটি প্রধান হরমোন নিঃসৃত হয়- টি-৩ (T3) এবং টি-৪ (T4)। এই হরমোনগুলো আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষের কাজ করার গতি নির্ধারণ করে। যখন এই গ্রন্থিটি প্রয়োজনের তুলনায় কম বা বেশি হরমোন তৈরি করে, তখনই শরীরে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়।

থাইরয়েড সমস্যার প্রকারভেদ ও লক্ষণ
থাইরয়েডের সমস্যা প্রধানত দুই ধরণের হয়ে থাকে:

১. হাইপোথাইরয়েডিজম (হরমোন কম তৈরি হওয়া):
যখন থাইরয়েড গ্রন্থি পর্যাপ্ত হরমোন নিঃসরণ করতে পারে না।

লক্ষণ: দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়া, ক্লান্তি অনুভব করা, অতিরিক্ত শীত লাগা, ত্বক খসখসে হয়ে যাওয়া, চুল পড়া এবং বিষণ্ণতা। নারীদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাবের অনিয়ম হতে পারে।

২. হাইপারথাইরয়েডিজম (হরমোন বেশি তৈরি হওয়া):
যখন গ্রন্থিটি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হরমোন তৈরি করে।

লক্ষণ: দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত গরম লাগা ও ঘাম হওয়া, মেজাজ খিটখিটে হওয়া এবং হাত-পা কাঁপা।

থাইরয়েড সমস্যা বোঝার জন্য সাধারণ কিছু রক্ত পরীক্ষাই যথেষ্ট। এর মধ্যে প্রধান হলো TSH, FT3 এবং FT4। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এই পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে গ্রন্থিটি ঠিকমতো কাজ করছে কি না। প্রয়োজনে চিকিৎসক থাইরয়েড আলট্রাসোনোগ্রাফিও করতে পারেন।

আধুনিক সুচিকিৎসা
থাইরয়েড সমস্যার চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদী হলেও এটি বেশ সহজ ও কার্যকর:

ওষুধ: হাইপোথাইরয়েডিজমের জন্য সাধারণত কৃত্রিম হরমোন ট্যাবলেট (যেমন: থাইরক্সিন) খেতে হয়। এটি শরীরের হরমোনের ঘাটতি পূরণ করে।

খাদ্যাভ্যাস: আয়োডিনযুক্ত লবণ ও সুষম খাবার গ্রহণ করা জরুরি। তবে কিছু সবজি (যেমন: বাঁধাকপি, ফুলকপি) অতিরিক্ত খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত যদি হাইপোথাইরয়েড থাকে।

নিয়মিত ফলোআপ: থাইরয়েডের ওষুধ চলাকালীন নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্ত পরীক্ষা করে ডোজ ঠিক করতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনোই ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।

থাইরয়েডের চিকিৎসা না করালে হার্টের সমস্যা, বন্ধ্যাত্ব এমনকি কোলস্টেরল বৃদ্ধির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি অনাগত শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে প্রভাব ফেলে।

থাইরয়েড কোনো মরণব্যাধি নয়, বরং একটি হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতা। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, সুশৃঙ্খল জীবনযাপন এবং নিয়মিত ওষুধের মাধ্যমে এই রোগ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। গলার কাছে কোনো ফোলা ভাব বা অস্বাভাবিক কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট (হরমোন বিশেষজ্ঞ) বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।