নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পর্যটকদের লাঠিপেটার ঘটনায় আলোচনায় আসা ফেনীর সোনাগাজী সার্কেলের তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তসলিম হুসাইনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করেছেন তার স্ত্রী নুশরাত জাহান শমী।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী রাকিব হাসান জানান, গত ২৯ জানুয়ারি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬–এ মামলার আবেদন করেন নুশরাত জাহান শমী। আবেদনকারীর জবানবন্দি রেকর্ডের পর ট্রাইব্যুনালের বিচারক কামরুন্নাহার বেগম রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আবেদনটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় এএসপি তসলিম হুসাইনের পাশাপাশি তার মা, ভাই ও বোনসহ আরও ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা সূত্রে জানা গেছে, তসলিম হুসাইন বর্তমানে বান্দরবান জেলার রুমা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, উভয় পরিবারের উদ্যোগে ২০২২ সালের ৩ জুন মুসলিম শরিয়ত অনুযায়ী এবং রেজিস্ট্রিকৃত নিকাহনামার মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। এ সময় ৭ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়। তবে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তসলিম হুসাইন তার স্ত্রীকে তালাকনামা পাঠান। বাদিনীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার আদালত গত ১৮ জানুয়ারি ওই তালাকনামার কার্যক্রমের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই তসলিম হুসাইন অন্য নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিভাগীয় তদন্তে এ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বদলির আদেশও দেওয়া হয়।
বাদীর অভিযোগ, বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে চাপ প্রয়োগ করে তার কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা যৌতুক আদায় করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। একাধিকবার শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, কখনো গাড়ি কেনা, কখনো জমি কেনা, কখনো আসামিদের গ্রামের বাড়ির ভিটায় মাটি ভরাট, কখনো দামি মোবাইল ও ঘড়ি, কখনো রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল কেনা এবং এমনকি অনলাইনে জুয়া খেলার জন্যও যৌতুক নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকাও আদায় করা হয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, চারিত্রিক স্খলন, উগ্র ও বেপরোয়া জীবনযাপন, সরকারি বাসভবনে তৎকালীন সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে মদ্যপান ও মাদক সেবন, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হোটেলে নারী অতিথিসহ যাতায়াত, যৌতুকের কারণে নির্যাতন এবং জোরপূর্বক টাকা ও স্বর্ণালংকার কেড়ে নেওয়ার ঘটনায় একপর্যায়ে বাদী আসামির কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেন।
নিজের নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের রেগুলেটর এলাকায় পর্যটকদের মারধরের অভিযোগ ওঠে এএসপি তসলিম হুসাইনের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় আলী আজগর (৩৬), তাঁর ভাই পুলিশ কনস্টেবল ওমর ফারুক (৩১) এবং আজগরের স্ত্রীসহ কয়েকজন আহত হন।

