ঢাকায় নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মী।
ভোটের আগের দিন বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দিনের বিভিন্ন সময়ে তাদের শাস্তি প্রদান করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত ও নির্বাচন কমিশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ডিএমপির সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছে। মিরপুরে জামায়াত প্রার্থীর দুই এজেন্টকে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে।
সূত্রাপুরে নগদ টাকা বিতরণের সময় জামায়াতের এক কর্মীকে হাতেনাতে ধরা হলে তাকে সংক্ষিপ্ত বিচারে দুই দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হাবিবুর রহমান (৬৩) সূত্রাপুর থানার জামায়াতের নায়েবে আমির। তার কাছ থেকে ১২টি টাকা ভর্তি খাম জব্দ করা হয়। প্রতি খামে ৫০০ টাকা করে মোট ৬,০০০ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
ওয়ারি বিভাগের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অন্য দুই ব্যক্তিকে যথাক্রমে এক মাস ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। এছাড়া মতিঝিল ডিভিশনের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট দুই ব্যক্তিকে ১০ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। ডিএমপি জানায়, জনগণের হাতে ধরা পড়া এবং পুলিশের ওপর নেতিবাচক মন্তব্য করায় এই সাজা প্রদান করা হয়েছে।
নির্বাচনের আগের দিন মিরপুরের শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ‘প্রভাব বিস্তারের দায়ে’ দাঁড়িপাল্লা মার্কার দুই এজেন্টকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক এই দণ্ড দেন। তারা হলেন— মেহেদি হাসান খাদেম (৩২) ও রাইহান হোসেন (২৩)। তাদের কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
কাফরুল থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন জানান, তারা কেন্দ্রের পোলিং অফিসার সুমনা ইসলামের সহায়তায় ভোটকেন্দ্রে ‘অবৈধভাবে প্রবেশ করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা’ করেছিলেন। এ ঘটনায় তাদের দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫,০০০ টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ১৫ দিন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অপরদিকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পোলিং অফিসার সুমনা ইসলামকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করা হয়েছে।

