× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদে সন্তানের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষত

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদে সন্তানের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষত। ছবি : সংগৃহীত

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদে সন্তানের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষত। ছবি : সংগৃহীত

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ একটি পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা, আর এই ঝড়ের ঝাপটা সবচেয়ে বেশি লাগে সন্তানের ওপর। এটি কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং একটি শিশুর সাজানো পৃথিবী ওলটপালট হয়ে যাওয়ার গল্প। পরিবার হলো একটি শিশুর বিকাশের প্রথম পাঠশালা। সেখানে যখন ভাঙন ধরে, তখন শিশুর শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক জীবনে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ে। বিচ্ছেদের প্রভাব বয়সভেদে ভিন্ন হতে পারে, তবে এর গভীরতা সবসময়ই অনস্বীকার্য।

১. মানসিক ও আবেগীয় প্রভাব
বিচ্ছেদের ফলে শিশুরা এক ধরণের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। তাদের মনে বিভিন্ন নেতিবাচক আবেগের সৃষ্টি হয়:

নিজেকে দোষী ভাবা: অনেক শিশু মনে করে তাদের কোনো আচরণের কারণেই হয়তো বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়েছে। এই অপরাধবোধ তাদের ভেতরটাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়।

অনিশ্চয়তা ও ভয়: “এখন আমার দেখাশোনা কে করবে?” বা “আমি কার সাথে থাকব?” এমন চিন্তা থেকে তাদের মনে ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম ভীতি তৈরি হয়।

বিষণ্ণতা ও একাকীত্ব: মা-বাবার একজনকে নিয়মিত কাছে না পাওয়ায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে, যা অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্ণতায় রূপ নেয়।

২. আচরণগত পরিবর্তন
পারিবারিক অস্থিরতা শিশুর আচরণে স্পষ্ট পরিবর্তন নিয়ে আসে:

আগ্রাসী মনোভাব: অনেক শিশু তাদের রাগ বা দুঃখ প্রকাশ করতে না পেরে খিটখিটে মেজাজের হয়ে যায় অথবা সহপাঠীদের সাথে মারমুখী আচরণ করে।

বিচ্ছিন্নতা: অনেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয় এবং মানুষের সাথে মেলামেশা কমিয়ে দেয়।

মনোযোগের অভাব: পড়াশোনা বা সৃজনশীল কাজে তাদের আগ্রহ ও মনোযোগ মারাত্মকভাবে কমে যায়।

৩. সামাজিক ও একাডেমিক প্রভাব
বিচ্ছেদের ধাক্কা শিশুর বাইরের জগতেও প্রতিফলিত হয়:

রেজাল্ট খারাপ হওয়া: গবেষণায় দেখা গেছে, পারিবারিক অশান্তির মধ্য দিয়ে যাওয়া শিশুদের পরীক্ষার ফলাফল তুলনামূলকভাবে খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সম্পর্ক নিয়ে আস্থার সংকট: ভবিষ্যতে নিজেদের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তারা আস্থার সংকটে ভোগে। সুস্থ সম্পর্কের প্রতি তাদের এক ধরণের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।

প্রতিকারের উপায়: আমরা কী করতে পারি?
বিচ্ছেদ অনিবার্য হয়ে পড়লে সন্তানের ক্ষতি কমিয়ে আনতে বাবা-মাকে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে:

স্পষ্ট যোগাযোগ: শিশুকে সহজ ভাষায় বোঝাতে হবে যে এটি বড়দের সিদ্ধান্ত এবং এতে তার কোনো দোষ নেই।

সহযোগিতামূলক অভিভাবকত্ব (Co-parenting): বিচ্ছেদ হলেও সন্তানের প্রয়োজনে বাবা ও মা উভয়কেই উপস্থিত থাকতে হবে। সন্তানের সামনে একে অপরের সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

রুটিন ঠিক রাখা: শিশুর জীবনযাপনের রুটিন (স্কুল, খেলাধুলা, খাওয়ার সময়) যতটা সম্ভব অপরিবর্তিত রাখা উচিত যাতে সে স্থিতি অনুভব করে।

পেশাদার পরামর্শ: প্রয়োজনে চাইল্ড সাইকোলজিস্ট বা কাউন্সিলরের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

বিচ্ছেদ হয়তো একটি দম্পতির জন্য সমস্যার সমাধান, কিন্তু সন্তানের জন্য এটি জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বাবা-মা যদি ধৈর্য, সহমর্মিতা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে পাশে থাকেন, তবে এই আঘাত কাটিয়ে উঠে শিশুটি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। ভালোবাসা আর গুরুত্বই পারে একটি ভেঙে যাওয়া শৈশবকে নতুন করে গড়ে তুলতে

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!