ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

গুম ও হাওর সংক্রান্ত অধ্যাদেশ অনুমোদন

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫, ০৪:৫৯ পিএম
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক। ছবি- সংগৃহীত

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গুম প্রতিরোধ ও হাওর জলাভূমি সংরক্ষণ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রাজধানী বার্নে বাংলাদেশের একটি নতুন দূতাবাস স্থাপনের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন, বাংলাদেশ হাওড় ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন এবং সুইজারল্যান্ডের রাজধানী বার্নে নতুন বাংলাদেশ দূতাবাস স্থাপনের সিদ্ধান্ত।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি অন্যূন পাঁচ বছর ধরে গুম থাকলে এবং জীবিত ফিরে না এলে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ডিসাপিয়ার্ড’ বা ‘গুম’ হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশের আলোকে সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিতে পারবে।

এ ছাড়া ভুক্তভোগী বা অভিযোগকারী ব্যক্তিগত উদ্যোগে ট্রাইব্যুনালের জন্য আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন। গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী অথবা তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের কোনো সদস্য কমিশনের পূর্বানুমতি ছাড়াই গুম হওয়া ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবেন বলেও অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ হাওড় ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর মাধ্যমে দেশের হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব, ক্ষমতা ও অধিক্ষেত্র স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে। অধ্যাদেশে হাওর ও জলাভূমি এলাকার জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ এবং বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের লক্ষ্যে সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারির বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া হাওর ও জলাভূমি এলাকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংরক্ষিত হাওর ও জলাভূমি এলাকা ঘোষণা করার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হাওর ও জলাভূমি এলাকায় কোন কোন কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে, সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। নিষিদ্ধ কার্যক্রম সংঘটিত হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর জন্য শাস্তির বিধানও অধ্যাদেশে সংযোজন করা হয়েছে।

হাওর ও জলাভূমি এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ব্যতিক্রম ছাড়া সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের মতামত গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অন্যান্য কর্তৃপক্ষ, দপ্তর ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়, স্থানীয় অংশীজনদের সম্পৃক্ততা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিধি, প্রবিধান ও নির্দেশিকা প্রণয়নের ক্ষমতাও প্রদান করা হয়েছে।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয় সুইজারল্যান্ডের রাজধানী বার্নে বাংলাদেশের নতুন একটি দূতাবাস স্থাপন করা হবে। স্বাধীনতার পর থেকেই সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বাংলাদেশের একটি পার্মানেন্ট মিশন রয়েছে। বার্নে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের দূতাবাস থাকলেও বাংলাদেশের দূতাবাস না থাকায় এতদিন জেনেভার পার্মানেন্ট মিশন থেকেই জাতিসংঘ সংক্রান্ত ও দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল।

প্রেস উইং জানায়, সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী ও কৌশলগত অংশীদার হওয়ায় বার্নে দূতাবাস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একজন রাষ্ট্রদূত, একজন ফার্স্ট সেক্রেটারি এবং কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু করা হবে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের মোট ৮২টি মিশন অফিস রয়েছে।

এদিকে বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের অকুতোভয় যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান নিয়মিতভাবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং খোঁজখবর নিচ্ছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরে পৌঁছে সরাসরি হাদির চিকিৎসা তদারকি করছেন।

এ ছাড়া চলতি বছর মহান বিজয় দিবস সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও সুচারুভাবে উদযাপনের জন্য মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।