আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে সমর্থন জানিয়ে ঢাকা-১১ (রামপুরা–বাড্ডা–ভাটারা–হাতিরঝিলের আংশিক) আসন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আতিকুর রহমান।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। পোস্টে নাহিদ ইসলামের প্রতি শুভকামনাও জানান আতিকুর রহমান।
আতিকুর রহমান লেখেন, দীর্ঘ ১০ মাস ২২ দিন পর তিনি একটি বড় জবাবদিহিতার দায়িত্ব থেকে মুক্ত হলেন। চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি সংগঠনের সিদ্ধান্তের পর থেকে ঢাকা-১১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে জনমত গঠনে সাধ্যমতো কাজ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ব্যক্তি, পরিবার ও পেশাগত দায়িত্বের বাইরে গিয়ে মাঠে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছেন।
ঢাকা-১১ আসনের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই এলাকাবাসী তাকে আপনজন হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং ভালোবাসায় আবদ্ধ করেছেন। তিনি এলাকাবাসীর সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন।
সমর্থকদের উদ্দেশে আতিকুর রহমান বলেন, এই পথচলায় যারা তার পাশে ছিলেন, তাদের অনেকেই কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন। কেউ রাত জেগে পোস্টার লাগিয়েছেন, কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাটছেন—সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি তাদের জন্য দোয়া করেন। নারী সহযাত্রীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে রোববার বিকেলে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জামায়াত নেতৃত্বাধীন আট দলীয় জোটের সঙ্গে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি এবং এনসিপিকে নিয়ে ১০ দলীয় জোট গঠনের ঘোষণা দেন।
একই দিন আলাদা সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং আধিপত্যবাদী শক্তির অগ্রযাত্রা ঠেকাতে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, শুরুতে এনসিপি এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে শরিফ ওসমান হাদির শাহাদাত দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে এবং নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

