আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের এই সময়ে নতুন করে কারিকুলাম তৈরির কাজ শুরু করাকে সমীচীন মনে করা হচ্ছে না।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রাথমিকভাবে ২০২৭ সাল থেকে প্রথম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা করেছিল। তবে শিক্ষা কমিশন গঠন ও শিক্ষানীতি চূড়ান্ত না করে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন করলে তা আবারও ব্যর্থ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদরা।
এ ছাড়া কারিকুলাম বাস্তবায়নের আগে পাইলটিং করা হবে কি না—সে বিষয়েও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
এনসিটিবি সূত্র জানায়, সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই শিক্ষাক্রম সংস্কার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কারণ, প্রতিটি নির্বাচিত সরকারই তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী শিক্ষা কাঠামো সাজাতে চায়। সে কারণে আপাতত নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ফ্রেমওয়ার্ক ও প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কিছু কাজ এগিয়ে রাখা হবে।
বর্তমানে এনসিটিবির কর্মকর্তারা পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও তদারকির কাজে ব্যস্ত থাকায় আগামী ২০ জানুয়ারির পর থেকে কারিকুলামসংক্রান্ত কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক (অতিরিক্ত দায়িত্ব, কারিকুলাম) অধ্যাপক ফাতিহুল কাদীর সম্রাট বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে তাদের পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার করা হবে। সে কারণেই আপাতত নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ শুরু করা হয়নি। তবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলমান।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে প্রণীত সর্বশেষ নতুন শিক্ষাক্রমটি গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাতিল করে। জনঅসন্তোষের মুখে সেই শিক্ষাক্রম প্রত্যাহার করে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আগের পাঠ্যবইয়ের বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ অংশ বাদ দিয়ে পাঠ্যসূচি পুনর্বিন্যাস করা হয়।


