× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০১:২৬ পিএম

জানুয়ারি থেকেই পে-স্কেল, বরাদ্দ ২০ হাজার কোটি টাকা

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০১:২৬ পিএম

পে-স্কেল। ছবি : সংগৃহীত

পে-স্কেল। ছবি : সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) আংশিকভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই কার্যকর হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারি মাস থেকেই সংশোধিত বেতন কাঠামো বা নতুন ভাতা কার্যকরের সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে অতিরিক্ত প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা ১৫ লাখের বেশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ও ভাতা পরিশোধে ব্যয় হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে ঘোষণা আসতে পারে। কমিশনের প্রতিবেদন ২১ জানুয়ারির মধ্যে হাতে পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

সূত্র অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে হয় সংশোধিত মূল বেতন কাঠামো, নয়তো নতুন ভাতাসমূহ কার্যকর করা হতে পারে। সংশোধিত বাজেটে যে অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছে সরকার। নতুন কাঠামোয় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ থাকতে পারে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

ইতোমধ্যে সরকার সংশোধিত বাজেট চূড়ান্ত করেছে, যা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। নতুন বাজেটের মোট আকার দুই হাজার কোটি টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। এতে উন্নয়ন বাজেট ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো হলেও অনুন্নয়ন বাজেট ২৮ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে, যার বড় অংশই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে ব্যয় হবে।

চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এই বরাদ্দ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানা গেছে। বর্তমানে দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। পাশাপাশি নতুন বেতন কাঠামো বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে, যদিও তাদের বেতন সরাসরি সরকারি বাজেট থেকে দেওয়া হয় না।

জাতীয় বেতন কমিশন বাংলাদেশ ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর জন্য পৃথক বেতন কাঠামোর সুপারিশ করতে পারে। কর্মকর্তাদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে বেসরকারি খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক করতে এবং বেতন নির্ধারণে নমনীয়তা আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইভাবে বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্যও আলাদা বেতন কাঠামোর প্রস্তাব আসতে পারে।

উল্লেখ্য, সরকার গত বছরের জুলাই মাসে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে চেয়ারম্যান করে নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। প্রায় এক দশক পর নতুন পে-স্কেল আসতে যাচ্ছে।

কমিশন সূত্র জানায়, গত ১০ বছরের মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সুপারিশ প্রস্তুত করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত মজুরি ২০১৫ সালের স্তরের নিচে নেমে না যায়। একই সঙ্গে দেশের রাজস্ব সক্ষমতা ও বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে নবম পে-কমিশনের বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, আগের মতোই ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হচ্ছে। কমিশনের এক সদস্য জানান, বেশির ভাগ বিষয় চূড়ান্ত হলেও সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন এখনো নির্ধারণ হয়নি। প্রাথমিকভাবে বেতনের অনুপাত ১:৮ ধরে সুপারিশ চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে আর্থিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন পে-স্কেল ঘোষণায় কিছুটা বিলম্ব হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদও বলেছেন, পে-কমিশনের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পে-কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সুপারিশ অনুযায়ী বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে এবং নির্বাচিত নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে তা বাস্তবায়ন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ততদিন পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘভাতা পেয়ে যাবেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!