× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

শাওন বিশ্বাস

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে, ইসি কার? 

শাওন বিশ্বাস

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

তপশিল অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর ২৩ দিন বাকি। নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ সামনে আসছে। কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোট এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট। এ অবস্থায় জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পড়েছে নির্বাচন কমিশন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশন অনেক ক্ষেত্রে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে, যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে বড় বাধা। যেসব কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং ব্যালট পেপারসহ নির্বাচন প্রক্রিয়ার সব কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধান করতে হবে। 

এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অভিযোগ বলেছেন, ‘সারা দেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আচরণে বিএনপির প্রতি পক্ষপাতের বিষয়টি এখন দৃশ্যমান। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা এসপি ও ডিসিদের—যারা একইসঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন—আচরণে নিরপেক্ষতার ঘাটতি লক্ষ করা যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকর্তাদের একটি তালিকা তারা ইতোমধ্যে করেছেন বলেও জানান তিনি। তবে আপাতত বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং এখনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। এ ধারা অব্যাহত থাকলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে সংশয় ও হতাশা তৈরি হবে। একইসঙ্গে নির্বাচনি মাঠে সমতার নীতি ভঙ্গ হলে দায় এড়াতে পারবে না নির্বাচন কমিশন।’ 

তিনি বলেন, ‘গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে একটি দলের শীর্ষ নেতাকে ঘিরে সরকারের অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও প্রটোকল দেওয়ার প্রবণতা নির্বাচনি মাঠে সমতার নীতির সরাসরি লঙ্ঘন। কারো নিরাপত্তা বা প্রটোকলে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু একটি প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের প্রতিও একই ধরনের আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এটি পক্ষপাতমূলক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। নির্বাচন কমিশন যদি এ ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জাতি একে পক্ষপাতমূলক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করবে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।’ 

১০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব, ঋণ খেলাপি বা ঋণ খেলাপির গ্যারান্টারদের অনেককে ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়েছি। এই কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করতে পারছি না।’ 

এ সময় ছাত্রদলের নির্বাচন ভবন ঘেরাও কর্মসূচিকেও ‘নাটক’ বলে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘আজ পুরো বিষয়টি এক ধরনের নাটকের মতো মঞ্চায়িত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার সময় দেখলাম, ছাত্রদলের দুই-তিন হাজার নেতাকর্মী গুরুত্বপূর্ণ দিনে একটি মব তৈরি করেছে। যে দিনটি ছিল আপিল শুনানির শেষ দিন, সেই দিন বাইরের এই চাপ একটি এক্সটারনাল প্রেশার হিসেবে কাজ করেছে।’ 

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, রায়ের পূর্ব মুহূর্তে অপরাধী বা তাদের পক্ষের সঙ্গে বসে বিচারক কোনো রায় দিলে তা কখনোই নিরপেক্ষ হয় না। আমরা দেখেছি, কমিশনাররা মাত্র ১৫ মিনিট কথা বলার পর দেড় ঘণ্টা সময় বিএনপির একদল নেতার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। কমিশনাররা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অনেক নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এরপরই রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এতে একপাক্ষিকতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। 

আসিফ মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণ খেলাপিদের ছাড় দেওয়ার ফলে রাজনৈতিক দলগুলো আত্মবিশ্বাস হারিয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকেও আমরা দেখেছি একজন দ্বৈত নাগরিকের পক্ষে কথা বলছেন। তিনি বলেছেন, বাধ্য হয়ে দেশের বাইরে ছিলেন, তবে রায় এখনো আসেনি। যদি এভাবে কমিশন কার্যক্রম চালিয়ে যায়, তাহলে তারা কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না। 

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখনো পুরোপুরি সিদ্ধান্ত নেই। নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিষয়ে আমরা আমাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছি। দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে আমরা দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেব।’ 

এদিকে, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নয় দিনব্যাপী আপিল শুনানি সমাপ্ত হয়েছে। ভোট সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে আমরা সবার সহযোগিতা চাই। নির্বাচন কমিশন একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে চায়। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি।’ 

নির্বাচনি পরিবেশজনিত এই ক্ষোভের নতুন রসদ হয়ে উঠেছে পোস্টাল ব্যালটের ইস্যু। এই বিষয়ে অনিয়মের তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরে ইসির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন ভবন ঘেরাও করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এই অবস্থায় ইসিকে আইনের মধ্যে থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করার পাশাপাশি নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

তাদের মতে, ইসির ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এমন পদক্ষেপ থেকে দূরে থাকতে হবে। নির্বাচনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো পক্ষ যেন বিশেষ কোনো দল বা ব্যক্তির প্রতি আনুগত্য পোষণ করতে না পারে, সে ব্যাপারে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। এসব বিষয় নিশ্চিত করতে পারলে দলগুলোর পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে তা আর ধোপে টিকবে না বলে মনে করছেন তারা।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!