পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের আকাশপথকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও)-এর সদস্যপদ প্রাপ্তির ৫৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে বেবিচকের উদ্যোগে সিভিল এভিয়েশন একাডেমিতে ‘প্রবৃদ্ধি, অর্জন, ভবিষ্যৎ চাহিদা এবং আইসিএও এনজিএপি–বাংলাদেশ দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) আয়োজিত সেমিনারে বেবিচকের দীর্ঘ পথচলা, অর্জন, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির রূপরেখা তুলে ধরা হয়।
সেমিনারের প্রধান বক্তা বেবিচকের মেম্বার (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, বেবিচকের ৫৩ বছরের যাত্রার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন। দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোতে ধারাবাহিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে যাত্রীসেবা, অপারেশনাল দক্ষতা ও নিরাপত্তার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পকে দেশের এভিয়েশন ইতিহাসে একটি মাইলফলক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী ধারণক্ষমতা বহুগুণে বাড়বে এবং বাংলাদেশ একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ অন্যান্য বিমানবন্দরের রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে, এপ্রন ও টার্মিনাল সুবিধা উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘The Legacy of Safe Sky’ শুধু একটি স্লোগান নয়, এটি বেবিচকের প্রতিটি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মূল দর্শন। ভবিষ্যতে গ্রিন এভিয়েশন, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং দুর্যোগ-সহনশীল বিমানবন্দর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সেমিনারে মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিশেষ গুরুত্ব পায় Next Generation of Aviation Professionals (NGAP) উদ্যোগ।
সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালক প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী বলেন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদই এভিয়েশন খাতের প্রধান শক্তি।
তিনি বলেন, Training Need Assessment (TNA) ছাড়া কার্যকর প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা সম্ভব নয়। প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, আইসিএও অডিটের সুপারিশ এবং ভবিষ্যৎ অপারেশনাল চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন একাডেমির ICAO Trainair Plus গোল্ড মেম্বারশিপ দেশের প্রশিক্ষণ সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বহন করে।
বেসরকারি এয়ারলাইন্স খাতের প্রতিনিধি হিসেবে সেমিনারে বক্তব্য দেন এয়ার অ্যাস্ট্রার সিইও ড. ইমরান আসিফ।
তিনি বলেন, যাত্রী চাহিদা বৃদ্ধি, প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার চাপে দক্ষ জনবল ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চিফ অব ট্রেনিং (ফ্লাইট অপারেশন) ক্যাপ্টেন সাজ্জাদুল হক বলেন, এনজিএপি উদ্যোগের মাধ্যমে পাইলট, কেবিন ক্রু ও ফ্লাইট অপারেশন সংশ্লিষ্ট জনবলকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব। টেকসই এভিয়েশন শিল্প গড়ে তুলতে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও এয়ারলাইন্সগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য বলেও তিনি মত দেন।
সেমিনারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার, এয়ার অ্যাস্ট্রাসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিবৃন্দ, হশাআবির নির্বাহী পরিচালক এবং বেবিচকের বিভিন্ন দপ্তর ও শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন