বাংলাদেশে আতিথেয়তা শিল্পে নিরাপত্তার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে ‘র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন’। হোটেলটি ২০২৫–২০২৬ সময়কালের জন্য সেফহোটেলস এক্সিকিউটিভ লেভেল সার্টিফিকেশন অর্জন করেছে। টানা সপ্তমবারের মতো এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একমাত্র হোটেল হিসেবে তারা আবারও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা মানদণ্ড পূরণ ও অতিক্রম করার সক্ষমতা প্রমাণ করল।
সেফহোটেলস অ্যালায়েন্স বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্বাধীন হোটেল নিরাপত্তা সার্টিফিকেশন সংস্থা। সংস্থাটি গ্লোবাল হোটেল সিকিউরিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী হোটেলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অডিট করে থাকে। এই মানদণ্ডের আওতায় ২১০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা উপাদান মূল্যায়ন করা হয়। সর্বোচ্চ স্তর এক্সিকিউটিভ লেভেল অর্জন র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনের অতিথি নিরাপত্তা, কর্মীদের কল্যাণ এবং স্টেকহোল্ডারদের আস্থার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনের ক্লাস্টার জেনারেল ম্যানেজার ডুকো ই. ডে ভ্রিস বলেন, ‘এই সার্টিফিকেশন শুধু একটি স্বীকৃতি নয়, এটি আমাদের অঙ্গীকারের প্রতীক। সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি ডিরেক্টর মেজর আহমেদ সাঈদ রাজার (অব.) নেতৃত্বে আমাদের টিম বিশ্বমানের নিরাপত্তা প্রোটোকল বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে প্রতিটি অতিথি নিশ্চিন্তে সময় কাটাতে পারেন।
এ বিষয়ে সেফহোটেলস-এর সিইও জোয়াকিম টর্নগার্ড বলেন, ‘আমাদের বিস্তৃত সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া সার্টিফায়েড হোটেলগুলোর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি অতিথি ও কর্মীদের জন্য আস্থার পরিবেশ তৈরি করে। সেফহোটেলস-সার্টিফায়েড হোটেলে অবস্থান কর্পোরেট ও সরকারি গ্রাহকদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যারা তাদের ভ্রমণকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেন।’
অতিথিদের পূর্ণ মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করতে র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে বাস্তবায়ন করা হয়েছে একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থাপনা। হোটেলটিতে রয়েছে আধুনিক অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা, উন্নত আগুন শনাক্তকরণ ও দমন প্রযুক্তি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা। পাশাপাশি সব কর্মীর জন্য নিয়মিত জরুরি প্রস্তুতি মহড়া ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
শারীরিক নিরাপত্তার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড অনুসরণ করে দৈনন্দিন কার্যক্রমে উন্নত স্যানিটেশন প্রোটোকল সংযোজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কঠোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যচর্চা।
সব মিলিয়ে এসব উদ্যোগ র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনকে ব্যবসায়িক ও অবকাশযাপনকারী উভয় ধরনের অতিথির জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া কর্পোরেট ও সরকারি গ্রাহকদের কাছে হোটেলটির আস্থাও আরও সুদৃঢ় হয়েছে।


