দেশের সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজধানীসহ সারা দেশে ভোট প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় শিল্প-কারখানা, বড় বাজার, শপিংমল, বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন এবং যান চলাচলসহ বহু সেবা ভোটকালীন সময় বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মিরপুরের পোশাক কারখানার কর্মী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে ট্রেন স্টেশনে গিয়েছিলাম, টিকিট পাইনি। এরপর বাস টার্মিনালে এসেছি, কিন্তু বাসেও সিট পাচ্ছি না। তবুও গ্রামের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছি, কারণ অনেক বছর ধরে ভোট দিতে পারিনি। এবার নিজের ভোটটা দিতে চাই।’
মিরপুর থেকে বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, তাজুল ও তার পরিবার দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। গ্রামের পৌঁছানোর সময় ঠিক নয়, তবে ভোটের গুরুত্বে যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
ভোটের প্রাক্কালে শহরে যাত্রীর চাপ
সরকারি ছুটির কারণে ঢাকার বিভিন্ন বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে মঙ্গলবার সকাল থেকেই যাত্রীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। সাধারণ ছুটি ছাড়াও শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় মানুষ দীর্ঘ ছুটিতে ঢাকা ছাড়ার চেষ্টা করছেন।
জরুরি কেনাকাটা শেষ করার তৎপরতা
ভোটের আগে একাধিক শপিংমল ও বড় বাজার সাময়িক বন্ধ হওয়ার ঘোষণায় শহরের বাসিন্দারা জরুরি কেনাকাটাও সেরে নিচ্ছেন। ঢাকার পান্থপথের বাসিন্দা শিরিন সুলতানা বলেন, ‘দোকানদাররা গ্রামে চলে গেছেন, গাড়িও বন্ধ থাকবে শুনেছি। তাই আমি একটু বেশি করে বাজার সাজাচ্ছি।’
মোবাইল ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেনে সীমাবদ্ধতা
বাংলাদেশ ব্যাংক মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এ ভোটের সময় লেনদেনে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত একবারে ১,০০০ টাকার বেশি লেনদেন করা যাবে না, এবং মোট ১০,০০০ টাকার বেশি লেনদেন করতে হলে একাধিকবার লেনদেন করতে হবে।
এ সময়ে বিকাশ, নগদ, রকেটসহ অন্যান্য এমএফএস-এর ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট সেবা বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকপ্রতি দৈনিক এক লাখ টাকার বেশি নগদ লেনদেন না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দোকানপাট, শপিংমল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ
বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি জানিয়েছে, ভোট উপলক্ষে বুধবার ও বৃহস্পতিবার ঢাকার সব বড় দোকান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও শপিংমল বন্ধ থাকবে। তবে পাড়া-মহল্লার মুদি দোকান ও সবজি বাজার সকাল থেকে আংশিক খোলা থাকবে।
তেজগাঁওয়ের মুদি ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ‘বড়জোর হাফবেলা দোকান বন্ধ রাখব। সকালে ভোট দিয়ে এসে আবার খুলে দিব।’
যান চলাচলে বিধিনিষেধ
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ভোটের সময় মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল সীমিত। এ ছাড়া ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত পিকআপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক, লঞ্চ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
কিন্তু জরুরি সেবা বা অনুমোদিত যানবাহন: আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা, সংবাদপত্র পরিবহনকারী যানবাহন এবং বিমানবন্দরগামী যানবাহন এসব বিধিনিষেধের আওতায় নেই।
পর্যটন ও ভ্রমণে সতর্কতা
নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা তৎপরতা বাড়ানো হবে। ভোটকালীন সময়ে নির্বাচনি এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থান নিষিদ্ধ। ফলে পর্যটন সংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিত থাকবে।
বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন (টোয়াব)-এর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রাফিউজ্জামান বলেন, ‘নির্বাচনের আগের রাত থেকে কোনো প্যাকেজ গ্রহণ করা হবে না। তবে পরের দিন থেকে দেশের ভেতরে ও বাইরে সব কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে।’
জরুরি সেবা সচল থাকবে
ভোটকালীন দুই দিনের সাধারণ ছুটির মধ্যেও জরুরি সেবা চালু থাকবে। এতে অন্তর্ভুক্ত:
- সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল
- বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ
- ডাক, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা
- পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম
- সমুদ্র ও স্থলবন্দর সংক্রান্ত কার্যক্রম
- পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থেকে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।




সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন