× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম

ভোটে হেরে যা বললেন তাসনিম জারা

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম

তাসনিম জারা। ছবি : সংগৃহীত

তাসনিম জারা। ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পাননি আলোচিত প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। তবে ফল ঘোষণার পর তিনি স্পষ্ট করেছেন- নির্বাচন শেষ মানেই তাঁর রাজনৈতিক পথচলার ইতি নয়; তিনি দেশেই থাকছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যেই কাজ চালিয়ে যাবেন বলে সংবাদমাধ্যমকে মন্তব্য করেছেন।

এবারের নির্বাচনে ঢাকা–৯ আসনে ডা. তাসনিম জারা পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট, যা মোট প্রদত্ত ভোটের প্রায় ২১ শতাংশ। প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে তিনি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন।

এই আসনে ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া, যিনি পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট।

নির্বাচনের পর আজ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অনেকেই ধারণা করেছিলেন ভোট শেষ হলেই হয়তো তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরে যাবেন। ‘আমি কোথাও যাচ্ছি না। আমার শেকড় এই মাটিতে, আমার কাজও এখানে। আমরা একটিমাত্র নির্বাচনের জন্য এই পথচলা শুরু করিনি। আমাদের লক্ষ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন। এটি দীর্ঘ পথ।’

ডা. তাসনিম জারা আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ছিলেন। তবে দলটি জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে গেলে তিনি পদত্যাগ করেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা–৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন।

কোনো বড় দলের সমর্থন ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নেওয়া তার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবুও ভিন্নধর্মী প্রচারণা, স্বচ্ছ রাজনীতির বার্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সক্রিয় প্রচার তাঁকে উল্লেখযোগ্য ভোট এনে দেয়।

ভোটের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে তার পোলিং এজেন্টদের বাধা দেওয়া, বের করে দেওয়া এবং বিশেষ করে নারী এজেন্টদের হয়রানির অভিযোগ তোলেন তিনি। কিছু কেন্দ্রে ভোট গণনার সময় এজেন্টদের থাকতে না দেওয়ার কথাও জানান। এসব বিষয়কে তিনি নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফলাফলে হতাশ না হয়ে তিনি এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভাষায়, প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ স্বচ্ছ ও নতুন ধারার রাজনীতির পক্ষে ভোট দিয়েছেন—এটাই বড় প্রাপ্তি।

তিনি বলেন, পুরোনো রাজনৈতিক বলয়ে নিজেকে বা তার মতো তরুণদের জায়গা দেখতে না পাওয়ার কারণেই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন। তাই এখনই কোনো প্রতিষ্ঠিত দলে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা কাঠামো গঠনের বিষয়টি পরিস্থিতি অনুযায়ী বিবেচিত হতে পারে।

তার প্রচারণায় নারীদের সক্রিয় উপস্থিতিকে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে নারীরা রাজনীতির মূলধারা থেকে সরে যাচ্ছেন- এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, গুণগত পরিবর্তন নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া সম্ভব নয়। ছোট মেয়েদেরও সামনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ডা. তাসনিম জারা তরুণদের ‘ভবিষ্যৎ’ নয়, বরং ‘বর্তমান’ বলে উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের জনমিতিক বাস্তবতায় তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।

শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে হবে, নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, ঘুষ ও লবিংনির্ভর চাকরির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।

তার মতে, তারুণ্যের শক্তি কাজে লাগাতে না পারলে দেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হবে।

Link copied!