ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠিত হলেও সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্ধেকের বেশি উপদেষ্টা এখনো তাদের বরাদ্দকৃত সরকারি বাসা ছাড়েননি।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিটি জোনের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ জন উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার দুজন বিশেষ সহকারীসহ মোট ১৮ জন সরকারি বাসা পেয়েছিলেন। এর মধ্যে ৯ জন ইতোমধ্যে বাসা ছেড়ে দিয়েছেন, কিন্তু বাকি ৯ জন এখনো সরকারি বাসায় অবস্থান করছেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যারা এখনো বাসা ছাড়েননি, তাদের বিষয়টি ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, চলতি মাসের মধ্যে তারা বাসা ছেড়ে দেবেন।
সিটি জোনের এক প্রকৌশলী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৬ জন উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার দুজন বিশেষ সহকারী বাসা পেয়েছিলেন। এর মধ্যে ৯ জন বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। বাকিদের বাসা ছাড়ার জন্য বলা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, কিছুদিন সময় লাগবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এখনো বাসা ছাড়েননি উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন আসিফ নজরুল, সি আর আবরার, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, মো. তৌহিদ হোসেন, ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক ও শারমিন এস মুরশিদ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বরাদ্দকৃত এসব বাসার সবকটি উপদেষ্টা বসবাসের কাজে ব্যবহার করতেন না; অনেকেই এগুলো ব্যক্তিগত অফিস হিসেবে ব্যবহার করতেন।
বর্তমানে নতুন মন্ত্রীদের জন্য বাসা বরাদ্দের প্রস্তুতি চলছে। ধানমন্ডি, মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, কাকরাইল ও গুলশান এলাকায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য মোট ৪০টি বাসা রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি বাসা প্রস্তুত, বাকি বাসাগুলোর মেরামত ও রং করার কাজ চলছে।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান (অতিরিক্ত সচিব) বলেন, মন্ত্রীদের বাসা বরাদ্দের কাজ চলছে। এখনো সব বাসা খালি হয়নি। কিছু সময় লাগবে। খালি থাকা বাসাগুলো বরাদ্দে প্রক্রিয়াধীন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খান বলেন, কিছু উপদেষ্টা বরাদ্দ পাওয়া বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। কিছু বাসা প্রস্তুত আছে। টেন্ডার শেষ করে ১৫টি বাসার কাজ শুরু হয়েছে। যেসব বাসা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো মেরামত ও রং করে মন্ত্রণালয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।


