জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অসহযোগিতা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তার অভিযোগের তীর সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের দিকে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ অভিযোগ উত্থাপন করেন।
পোস্টে রাষ্ট্রদূত আনসারী দাবি করেন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সহকারী মহাসচিব পদে আবেদন করতে তাকে উৎসাহিত করেছিলেন জাতিসংঘের এক বিদেশি সহকর্মী। লাটভিয়ার নাগরিক ব্র্যান্ডস কেহরিসের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পদটি শূন্য হয়। বিষয়টি তিনি সরকারপ্রধান প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করলে তাকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। পররাষ্ট্র উপদেষ্টাও প্রাথমিকভাবে আবেদন করার অনুমতি দেন বলে দাবি করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত আনসারীর ভাষ্য, এ ধরনের পদে প্রার্থীর পক্ষে সংশ্লিষ্ট সদস্য রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সমর্থন ও নোট ভারবাল প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতায় আগ্রহী থাকলেও তিনি বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক সমর্থন নিয়েই এগোতে চেয়েছিলেন। তবে আবেদন পাঠানোর পর সাবেক উপদেষ্টার কাছ থেকে ‘not to proceed’ বার্তা পান বলে উল্লেখ করেন তিনি। এরপর থেকে তার ফোনকল গ্রহণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, আবেদন করলেই নিয়োগ নিশ্চিত হয় না; তবে দেশের পক্ষ থেকে ন্যূনতম সমর্থন না পাওয়াই তাকে হতাশ করেছে। এ বিষয়ে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিষয়টি জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়েছিল ‘মুশফিক জিততে পারবে না, তাই সমর্থন দেওয়া হয়নি।’ অথচ সংশ্লিষ্ট পদে কোনো ভোটাভুটি হয় না; সদস্য রাষ্ট্র প্রার্থী মনোনয়ন দিলে জাতিসংঘ শর্টলিস্ট করে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিয়োগ দেয় এমন ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত আনসারী।
তিনি অভিযোগ করেন, দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন ইস্যুতে তাকে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে। তবে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের কারণে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করছেন না বলে জানান। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করবেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার মুশফিকুল ফজল আনসারীকে মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়। বর্তমানে তিনি ওই দায়িত্বে কর্মরত।
এ বিষয়ে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন