ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু যে জেলা থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনি অঙ্গীকারে অগ্রাধিকারে থাকা ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে পরীক্ষামূলক (পাইলট) কার্যক্রম চূড়ান্ত করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে এই কার্যক্রমের অগ্রগতি তদারকি করছেন। ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের আর্থিক সুরক্ষায় দেশের আট বিভাগের আটটি উপজেলায় পরীক্ষামূলক (পাইলট) ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি শুরু হবে। তবে শুরুতে ঢাকার বাইরে একটি জেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পাইলট কার্যক্রম শুরু হবে।

মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, ঢাকার বাইরে বগুড়া জেলা থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পাইলট কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি পরিচালনার লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভার একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি মূলত ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে উপযুক্ত নকশা বা ডিজাইন এবং সুবিধাভোগী নির্বাচনের পদ্ধতি প্রণয়ন করে। আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

মূলত দেশের দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপে থাকা পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে এ কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত পরিবারগুলোকে নিয়মিত নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। বিশেষভাবে পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর হাতে এই অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা নারীর ক্ষমতায়নেও ভূমিকা রাখবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যমান অনেক সামাজিক ভাতার তুলনায় ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় সহায়তার পরিমাণ বেশি হতে পারে। পাশাপাশি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করা হবে। এতে প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ফলে অনিয়ম, ভুয়া তালিকা ও মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমবে।

প্রথম ধাপে দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে কার্যক্রম শুরু হবে। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।