অন্তর্বর্তী সরকারের একদম শেষ দিনে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তার (পিও) পদ বাগিয়ে নেওয়া রুহুল আমিনকে বদলি করা হয়েছে। অন্তবর্তী সরকারের সময় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শেষ কর্মদিবসে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে বিতর্কিত এই কর্মকর্তাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পিও হিসেবে বদলি করা হয়েছিল।
রুহুল আমিনসহ আরেক বিতর্কিত ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আকমল হোসেনকে নিয়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ‘তথ্যমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পিও পদ বাগিয়েছেন বিতর্কিতরা’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ।
এরপর সোমবার (২ মার্চ) রুহুল আমিনকে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে সরিয়ে অফিস আদেশ জারি করে তথ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখার উপসচিব আলমগীর কবির স্বাক্ষরিত ওই অফিস আদেশে রুহুল আমিনকে অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) দপ্তরে পিও হিসেবে বদলি করা হয়েছে। একই আদেশে যুগ্মসচিব (প্রশাসন)-এর পিও মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পিও-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, তথ্যমন্ত্রীর পিও পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হতে পারে আকমল হোসেনকে।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তথ্যমন্ত্রীর পিও হিসেবে বদলি করা হয় আকমল হোসেনকে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের মাঝে সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী হিসেবে অভিযোগ রয়েছে আকমল হোসেনের বিরুদ্ধে। আওয়ামী মন্ত্রী এবং লীগপন্থি কর্মকর্তাদের সুনজরে বাগিয়েছিলেন বিদেশি পোস্টিং।
অন্যদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে সেই সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে ছিলেন রুহুল আমিন। তবে প্রায় এক মাস পর ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে উপদেষ্টার পিও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল রুহুলকে। সেবাগ্রহীতাকে স্লিপে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল ওয়ালেটের নম্বর দিয়ে উৎকোচ চাওয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে তথ্য উপদেষ্টার পিও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল রুহুল আমিনকে।
তবে অন্তবর্তী সরকারের একদম শেষ দুই দিনে পৃথক দুই আদেশে এই বিতর্কিত দুই কর্মকর্তাকে আবারও মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পিও হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি বেশ বিতর্কের জন্ম দেয়।


