ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

যেভাবে পাবেন ‘কৃষক কার্ড’, আবেদন করতে যা লাগবে

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য এক যুগান্তকারী উদ্যোগ হাতে নিয়েছে সরকার – ‘কৃষক কার্ড’। এটি শুধু একটি কার্ড নয়, বরং চাষিরা এখন থেকে পাবেন সরাসরি সরকারি সুবিধা, কৃষি ঋণ মওকুফ, ভর্তুকিপ্রাপ্ত সার-বীজ, মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা এবং আরও অনেক কিছু, একাধিক ধাপ পেরোতে হবে না।

এই কার্ডের মাধ্যমে প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং তাদের কৃষি জীবনকে হবে আরও সহজ, নিরাপদ ও লাভজনক। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঋণ মওকুফ সুবিধা ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের দরিদ্র কৃষকদের জন্য প্রযোজ্য হবে, যা তাদের ঋণের বোঝা হ্রাস এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

কৃষক কার্ডের মূল উদ্দেশ্য

সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে জানা গেছে, এই কার্ডের লক্ষ্য হলো:

  • দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
  • কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করা
  • ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের কৃষকদের
  • বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কৃষি খাতের সুদসহ বকেয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ১,৫৫০ কোটি টাকা, যা এই উদ্যোগে সরাসরি উপকৃত হবে।

কৃষক কার্ডের সুবিধা

এই কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষক পাবেন:

  • সরকারি সেবা ও প্রণোদনা সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টে।
  • ভর্তুকিপ্রাপ্ত সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি সহজলভ্য।
  • কৃষিঋণ সুবিধা সহজ ও সুসংগঠিত।
  • আবহাওয়া, উৎপাদন ও বাজারের তথ্য এসএমএসে সরাসরি আপডেট।
  • সরকার ও কৃষকের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ, যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী সুযোগ না পায়।

কার্ডের কার্যক্রম

কৃষক কার্ডের সাথে যুক্ত থাকবে ডিজিটাল প্রোফাইল, যেখানে থাকবে:

  • জমির আয়তন ও ফসলের ধরন
  • কৃষকের অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য

কৃষক কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য

কৃষক কার্ড পেতে আপনার নিম্নলিখিত তথ্যগুলো প্রস্তুত রাখতে হবে:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) কপি
  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • রেজিস্ট্রেশন মোবাইল নম্বর
  • জমির দলিল বা ভাগে চাষির প্রমাণপত্র
  • ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট নম্বর

কৃষক কার্ড পাওয়ার ধাপসমূহ

সরকার মূলত স্থানীয় কৃষি অফিসের মাধ্যমে কার্ড বিতরণ করবে। ধাপগুলো হলো:

  • উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ
  • আপনার ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (SAAO) প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করবেন।

নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন

সরকার যখন আপনার এলাকায় প্রকল্প শুরু করবে, তখন ফরম পূরণ করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনেও করা যাবে।

তথ্য যাচাই

  • জমির পরিমাণ, ফসলের ধরন ইত্যাদি সরেজমিনে যাচাই করা হবে।
  • ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি
  • আপনার এনআইডি ও মোবাইল নম্বরের ভিত্তিতে প্রোফাইল তৈরি হবে।

কার্ড বিতরণ

যাচাই শেষে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কার্ড বিতরণ করা হবে।

সতর্কতা

কার্ড বিনা মূল্যে পাওয়া যাবে।

কার্ডের জন্য কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন করবেন না।