ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের অবদান

মো. সায়েম ফারুকী
প্রকাশিত: মার্চ ৬, ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে গৌরবজনক ভূমিকা রেখে আসছে বাংলাদেশ। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

১৯৮৮ সালে ইরান–ইরাক যুদ্ধ পরবর্তী পর্যবেক্ষক মিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়। এরপর গত প্রায় চার দশকে বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করে এসেছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে একাধিকবার শীর্ষ অবস্থানে ছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে অবস্থান করে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, শান্তিরক্ষী প্রেরণে নেপাল প্রথম স্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রুয়ান্ডা এবং তৃতীয় স্থানে বাংলাদেশ অবস্থান করছে। বর্তমানে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীর সংখ্যা প্রায় ৫,২০০-এর বেশি, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী শান্তিরক্ষীও রয়েছেন।

বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা কঙ্গো, দক্ষিণ সুদান, মালি, হাইতি, লাইবেরিয়া এবং লেবাননের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও মানবিক সহায়তার কারণে তারা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন।

শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে অনেক বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন। এর বড় একটি উদহারণ সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিক বেসে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় নিহত হয় ছয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষী সদস্য। ওই ঘটনায় আরও ৮ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী আহত হন।

নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণেও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। নারী সেনা ও পুলিশ সদস্যরা বিশেষ করে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

জাতিসংঘ বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশকে ‘মডেল শান্তিরক্ষী দেশ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। শান্তিরক্ষী দিবসে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করেছে।

বাংলাদেশ সরকার ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সমন্বয় আরও জোরদার করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার এই চলমান অভিযানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের জন্য গর্ব ও সম্মানের একটি উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।