রাজধানীর মিরপুরে একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুই সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে মিরপুর-২ নম্বরে অবস্থিত ১১ তলা এলএ প্লাজা ভবনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্য আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যা ও শেখ রাকিবুজ্জামান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মিরপুর থানায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরে বিমানবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
নিহত আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যার বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুরে এবং শেখ রাকিবুজ্জামানের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকায়। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ঈদের কেনাকাটা করতে ওই ভবনে গিয়েছিলেন। এ সময় আগুন লাগলে তারা ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের মতে, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং কেন তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে তা নিয়ে তদন্ত চলছে। বাণিজ্যিক ভবন হওয়ায় এবং তৃতীয় তলায় আগুন লাগায় উদ্ধার কার্যক্রম কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছিল।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। প্রথমে চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আরও দুটি ইউনিট যোগ দেয়। তাদের চেষ্টায় বিকেল ৩টা ২২ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে পুরোপুরি নিভে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের মিরপুর স্টেশনের কর্মকর্তা শাজাহান সিরাজ বলেন, মিরপুর-২ নম্বরে অবস্থিত ১১ তলা বাণিজ্যিক ভবনের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর ভবনের ভেতরে থাকা অনেকেই আতঙ্কে ছাদে আশ্রয় নেন, আবার কেউ কেউ বিভিন্ন তলায় আটকা পড়েন।
তিনি আরও জানান, টার্ন টেবিল ল্যাডার (টিটিএল) ব্যবহার করে ভবনের ছাদ ও বিভিন্ন তলা থেকে মোট ২৪ জনকে উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে ১৪ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী ছিলেন। এছাড়া চার ও পাঁচ তলার মাঝামাঝি সিঁড়ি থেকে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া একজন নারী ও একজন পুরুষকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তারা ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।


