রাজধানীতে জ্বালানি তেলের সংকটের কারনে সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীতে অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে পড়েছে। আর যেগুলো খোলা আছে সেখানে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে মিলছে অল্প পরিমাণ তেল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক, রাইড শেয়ারিং চালক এবং অফিসগামী মানুষজন।
বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, অনেক ফিলিং স্টেশনে পাম্প বন্ধ রেখে অপেক্ষমাণ গাড়িগুলোকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কোথাও মাইকিং করে আবার কোথাও হাত ইশারায় চালকদের অন্যত্র চলে যেতে বলা হচ্ছে। তবুও জ্বালানি পাওয়ার আশায় অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন।
একটি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘গত রাতেই আমাদের মজুত প্রায় শেষ হয়ে গেছে। প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল পাই, এখন তার চার ভাগের এক ভাগও আসছে না। তাই অনেক সময় বাধ্য হয়ে পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’
এদিকে কয়েকটি স্টেশন ঘুরেও তেল না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন চালকেরা। রাইড শেয়ারিং চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে সময় চলে যাচ্ছে। সকাল থেকে তিনটা পাম্প ঘুরেছি, কোথাও তেল পাইনি। তাই কাজ করতে পারছি না।’
অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু চালক অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন। অফিসগামী এক যাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘রাইড বুক করলে চালকেরা বলছে তেল পাওয়া যাচ্ছে না, তাই বেশি ভাড়া দিতে হবে। না দিলে অনেকেই ট্রিপ ক্যানসেল করে দিচ্ছে।’
জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব পড়েছে গণপরিবহনেও। অনেক বাস চালকই বলছেন, তেল না পাওয়ায় নিয়মিত ট্রিপ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
মোহাম্মদপুর–গুলিস্তান রুটে চলাচলকারী একটি বাসের চালক আব্দুল মালেক বলেন, ‘সকালে ডিপো থেকে বের হওয়ার আগে তেল নিতে গিয়েছিলাম, কিন্তু পাম্প বন্ধ। পরে আরেকটা পাম্পে প্রায় দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অল্প তেল পেয়েছি। এভাবে চললে তো নিয়মিত ট্রিপ দেওয়া সম্ভব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাস চালাতে তেল লাগবেই। তেল না থাকলে গাড়ি রাস্তায় নামানোই যাবে না। এতে যাত্রীও কষ্ট পাবে, আবার আমাদের আয়ও কমে যাবে।’
কিছু স্থানে সীমিত পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ থাকলেও সেখানে মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে রাজধানীতে যানবাহন চলাচল ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন আরও ব্যাহত হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন