ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা অনুসন্ধানে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার (১৮ আগস্ট) ট্রেনটি ঢাকা থেকে চিলাহাটির উদ্দেশ্যে ভোর ৬টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে যায়। সান্তাহার স্টেশন পার হয়ে তিলকপুর স্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় ব্যানার সিগন্যাল অনুসরণ না করার কারনে বগুড়ার আদমদিঘি উপজেলার বাগমারি এলাকায় ৯টি কোচ লাইনচ্যুত (ডিরেইলড) হয়। এতে ৬৬ জন আহত হন। এর মধ্যে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ২০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ৪০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং ৬ জনকে বগুড়া আদমদিঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য ইশ্বরদি ও পার্বতীপুর থেকে রিলিফ ট্রেন যাচ্ছে।
দুর্ঘটনার সময় প্রকৌশল বিভাগের লোকজন ব্যানার ফ্ল্যাগ ধরে এবং কশান মেসেজ দিয়ে রেল চেঞ্জের কাজ করছিলেন। স্টেশন থেকেও কশান অর্ডার দেওয়া হয়। তা লোকো ড্রাইভার অনুসরণ না করায় লাইনচ্যুতির কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রধান পরিবহন কর্মকর্তার নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন যন্ত্র প্রকৌশলী, প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান সংকেত প্রকৌশলী।
রেল কর্তৃপক্ষ সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা থেকে বুধবার সন্ধ্যা ও রাতের সবগুলো ট্রেন ইতোমধ্যে ছেড়ে গেছে। শুধু পঞ্চগড় এক্সপ্রেস সেকশন ক্লিয়ার না পাওয়ায় ছেড়ে যেতে পরেনি। এছাড়া চিলাহাটি এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে সঠিক সময়ে ছাড়া সম্ভব হবে। উদ্ধার কার্যক্রম সমাপ্ত হলে এগুলোর কোনোটিই বাধাপ্রাপ্ত হবে না।
যদি উদ্ধারকাজ শেষ না হয়, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস সান্তাহার থেকে বিকল্প পথে কুড়িগ্রাম প্রেরণ করা যেতে পারে। উদ্ধারকাজ শেষ না হলে সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া দ্রুতযানও পথিমধ্যে আটকা পড়তে পারে।
আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকালে ঢাকা থেকে নীলসাগর এক্সপ্রেস ও একতা এক্সপ্রেস ছেড়ে যেতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।


