রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরি ঘাটে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসের নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চলছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল থেকেই ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দল অক্সিজেন মাস্কসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে নদীতে তল্লাশি শুরু করেছে।
ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জানান, গতকাল বিকেল থেকেই তারা বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি বিশেষ ডুবুরি ইউনিট নিখোঁজদের সন্ধানে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ মোট ২৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের মরদেহ শনাক্তের পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ৩ নম্বর পন্টুন দিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাসটিতে প্রায় ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই ১১ জন যাত্রী কোনোমতে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও বাকিরা তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধান না পাওয়া যাবে, ততক্ষণ এই উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

