বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি, সমন্বয় এবং জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি ঠেকাতে দেশের প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে (পেট্রোল পাম্প) ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ট্যাগ কর্মকর্তাদের কর্মপরিধি নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সম্প্রতি জ্বালানি তেল সরবরাহে অস্থিরতা, পাম্পে দীর্ঘ লাইন এবং কৃত্রিম সংকটের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে জ্বালানি তেল গ্রহণ, মজুত, বিক্রি ও সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে তদারকির জন্য ট্যাগ কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে হবে।
নির্ধারিত কর্মপরিধি অনুযায়ী ট্যাগ কর্মকর্তাদের দায়িত্বগুলো হলো-
১। প্রতিদিন ফিলিং স্টেশনের প্রারম্ভিক জ্বালানি মজুত রেকর্ডভুক্ত করা।
২। ডিপো থেকে সরবরাহকৃত জ্বালানি তেল সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনে উপস্থিত থেকে পরিমাপপূর্বক গ্রহণ করা এবং পে-অর্ডার ও চালান/রসিদের সঙ্গে পরিমাণ মিলিয়ে দেখা।
৩। ডিপ-রড বা ডিপ-স্টিকের মাধ্যমে সরবরাহকৃত জ্বালানি তেলের পরিমাণ নিশ্চিত করা।
৪। ডিপো থেকে দৈনিক জ্বালানি গ্রহণের হিসাব ফিলিং স্টেশনের রেজিস্ট্রারে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে কি না তা তদারকি করা।
৫। ডিসপেন্সিং মেশিনের দৈনিক মিটার রিডিং রেজিস্ট্রার পর্যবেক্ষণ করে বিক্রয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য যাচাই করা।
৬। প্রতিদিন বিক্রয় শেষে সমাপনী মজুত পর্যালোচনা করা।
৭। ডিসপেন্সিং মেশিনের পরিমাপ সঠিক রয়েছে কি না তা নিয়মিত পরীক্ষা করা।
৮। অনুমোদিত লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী পণ্যভিত্তিক মজুত ক্ষমতা ও বিদ্যমান মজুত সক্ষমতা যাচাই করা।
৯। ফিলিং স্টেশনের আশপাশে কোনো অননুমোদিত ট্যাংক বা স্থাপনা রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা।
১০। ডিপো থেকে পাম্প এবং পাম্প থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থাকে দৃশ্যমান করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১১। ডিপো, ট্যাঙ্কার, পাম্প ও খুচরা বিক্রির তথ্য সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রতিটি পাম্পে দিনে অন্তত তিনবার (সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যা) স্টক হালনাগাদ নিশ্চিত করা।
১২। ডিপো থেকে জ্বালানি গ্রহণের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিক্রি শুরু নিশ্চিত করা; এক ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি শুরু না হলে তা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং পর্যায়ক্রমে সতর্কতা, ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সাময়িক স্থগিতাদেশের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৩। পাম্প খোলা থাকা, স্টক রেজিস্টার, ডিসপ্লে বোর্ড, ক্যাশ মেমো প্রদান, নির্ধারিত সীমা অনুসরণ এবং অবৈধভাবে কন্টেইনারে বিক্রি হচ্ছে কি না—এসব বিষয় জিও-ট্যাগযুক্ত প্রমাণসহ নিয়মিত প্রতিবেদন আকারে দাখিল করা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং ভোক্তা পর্যায়ে সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন