ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বাড়তে পারে সাপ্তাহিক ছুটি, ফিরতে পারে হোম অফিস ও অনলাইন ক্লাস

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি খাতে চাপ সামাল দিতে সরকার সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা ত্বরান্বিত করছে। এ-সংক্রান্ত পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ ব্যবস্থা এবং অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা।

এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আংশিকভাবে অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় ভাবনায় রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সব সরকারি সংস্থাকে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য নিজস্ব প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়েছে। এসব প্রস্তাব আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার আপাতত তিন মাসের স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পথে। তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হলে মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলও নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, আমদানিতে অতিরিক্ত খরচ এবং ডলার সংকটের কারণে সরকার এই পদক্ষেপের দিকে ঝুঁকছে। আলোচনায় থাকা অন্তত আটটি সাশ্রয়ী পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে—সাপ্তাহিক ছুটিতে অতিরিক্ত এক দিন যুক্ত করা বা কর্মকর্তাদের সপ্তাহে দুই দিন হোম অফিসের সুযোগ দেওয়া।

এ ছাড়া অফিসের কাজের সময়সূচি দ্রুত শুরু করা বা মোট কাজের সময় কমানোর প্রস্তাবও তোলা হয়েছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহের অর্ধেক ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা জানান, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি; মন্ত্রিসভা বৈঠকে ঠিক করা হবে কোন পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন হবে। জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণেও সরকার বিশেষ নজর দিচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় সরকারি ঋণ পরিহার ও কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাবও টেবিলে রয়েছে। তবে তেলের দাম বৃদ্ধি এখনই সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বাইরে রয়েছে।

একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলছেন, বিশ্ব পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের বাইরেও আমাদের ভাবতে হতে পারে। ইতিমধ্যেই কিছু মন্ত্রণালয় তাদের নিজস্ব সাশ্রয়মূলক ব্যবস্থার খসড়া তৈরি শুরু করেছে।

সরকার ইতোমধ্যে কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে—অফিসগুলোতে দিনের বেলা প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার, এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার ও বিদ্যুতের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিটি অফিসে ‘ভিজিল্যান্স টিম’ গঠন করা হবে।

বিশ্বজুড়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত জ্বালানি বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য বিঘ্ন বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য সরাসরি প্রভাব ফেলে। দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বিদেশি গ্যাস ও জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই সংকট বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিফলিত হতে পারে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, পেট্রোবাংলা সতর্ক করেছে যে, আগামী মাসগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কমতে পারে। তবে সম্প্রতি কেনা এলএনজি সময়মতো পৌঁছালে এপ্রিল মাসে কোনো প্রভাব পড়বে না।

সরকারি কর্মকর্তারা জানান, এখন চাহিদাপক্ষ নিয়ন্ত্রণ (ডিএসএম) কর্মসূচির মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন প্রভাবিত করার প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিডকালে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি।

এই মুহূর্তে সরকার পরিস্থিতি মনিটর করছে এবং প্রয়োজন হলে বিশেষ মন্ত্রিসভা বৈঠক ডেকে জ্বালানি সাশ্রয় ও চাহিদাপক্ষ নিয়ন্ত্রণের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।