রাজধানী ঢাকায় জনদুর্ভোগ কমানো এবং পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে আজ বুধবার (১ এপ্রিল) থেকে বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ফুটপাত ও সড়কের একাংশ দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ রেস্টুরেন্ট, ওয়ার্কশপ এবং স্থায়ী স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করাই এ অভিযানের মূল লক্ষ্য।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ট্রাফিক বিভাগের আটটি জোনের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে অভিযান শুরু হয়ে গুলশান বিভাগে গিয়ে শেষ হবে। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সড়কের পাশে অবৈধভাবে দোকান পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএমপি জানায়, কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর দখলদারত্বের কারণে সৃষ্ট তীব্র যানজট নিরসনেই এ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এই অভিযান সাধারণ হকারদের বিরুদ্ধে নয়। বরং যেসব সামর্থ্যবান ব্যবসায়ী সড়কের ওপর রেস্টুরেন্টের কিচেন বা স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে জনপথ দখল করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেই মূলত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বৈধ সীমার বাইরে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি হকারদের জন্য নির্ধারিত স্থানে শিগগিরই হলিডে ও নাইট মার্কেট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এর আগে গত ২৩ মার্চ ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় রেস্টুরেন্ট, যানবাহনের ওয়ার্কশপ, আসবাবপত্র ও পোশাকের দোকানগুলো তাদের কার্যক্রম ফুটপাত ও মূল সড়কে সম্প্রসারণ করেছে। এতে পথচারীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম যানজট।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মোটরগাড়ির ওয়ার্কশপগুলো প্রায়ই ফুটপাত ও সড়কের একটি লেন দখল করে গাড়ি মেরামত করে, ফলে পথচারীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, যারা অবৈধভাবে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের দ্রুত মালামাল সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


