ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সুরের মূর্ছনায় রমনা বটমূল, গানে গানে নতুন বছরকে বরণ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ০৭:৩৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর রমনা বটমূলে শুরু হয়েছে ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই সংগীত, আবৃত্তি আর সম্মিলিত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিচ্ছেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এবারের আয়োজন। এ বছরের বর্ষবরণের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।

প্রতি বছরের মতো এবারও বিপুল মানুষের উপস্থিতিতে রমনার বটমূল পরিণত হয়েছে উৎসবমুখর মিলনমেলায়। সংস্কৃতিচর্চা আর আবহমান বাঙালি চেতনার ধারক এই আয়োজন ঘিরে ভোর থেকেই জমে ওঠে উৎসবের আবহ।

ছায়ানটের এবারের আয়োজন সাজানো হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁই, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র, অজয় ভট্টাচার্য ও আবদুল লতিফসহ বিভিন্ন কবি-সুরস্রষ্টার গান ও লোকগানে। মোট ২২টি গান পরিবেশিত হচ্ছে—এর মধ্যে ৮টি সম্মেলক গান এবং ১৪টি একক পরিবেশনা। পাশাপাশি থাকছে দুটি পাঠ।

ছায়ানটের শিশু বিভাগসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিল্পী মিলিয়ে প্রায় ২০০ জন শিল্পী অংশ নিচ্ছেন এবারের আয়োজনে।

১৯৬৭ সাল থেকে রমনার বটমূলে পয়লা বৈশাখে বর্ষবরণ আয়োজন করে আসছে দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আয়োজন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের এক অভিন্ন উৎসবে পরিণত হয়েছে।

এদিকে ভোরের সূর্যের আলোয় নতুন বছর ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিতে সারা দেশজুড়ে চলছে উৎসবের আবহ। পুরোনো বছরের ক্লান্তি, গ্লানি আর শোক পেছনে ফেলে নতুন আশার বার্তা নিয়ে এসেছে এই নববর্ষ, যা বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়েছে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। এবারের শোভাযাত্রার প্রধান আকর্ষণ পাঁচটি মোটিফ—মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। এগুলো যথাক্রমে শক্তি, সৃজনশীলতা, শান্তি, গৌরব ও গতিশীলতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে।

বাঁশ, কাঠ আর রঙিন কাগজে তৈরি এসব বিশাল প্রতিকৃতি নববর্ষে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের বার্তা বহন করছে। শোভাযাত্রায় অংশ নিচ্ছেন প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী, যারা বহন করছেন জাতীয় পতাকা। পাশাপাশি ৩৫ জন যন্ত্রশিল্পীর পরিবেশনায় বেজে উঠছে ‘এসো হে বৈশাখ’।