× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম

জ্বালানি সংকটে হুমকির মুখে মোবাইল নেটওয়ার্ক

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব এখন সরাসরি পড়ছে মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাতে। দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং ও জ্বালানি ঘাটতির কারণে নেটওয়ার্ক সচল রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর’ ও ‘ক্রমবর্ধমান সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন (অ্যামটব) জানিয়েছে, সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন সেবা বজায় রাখা সম্ভব নাও হতে পারে।

সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে অ্যামটব বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে চিঠি দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে দেশের টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক আংশিক বা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাড়ছে চাপ

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল টাওয়ার ও ডেটা সেন্টার চালাতে এখন প্রায় পুরোপুরি জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানির প্রয়োজন হচ্ছে। শুধু বিটিএস চালাতেই প্রতিদিন প্রায় ৫২ হাজার লিটার ডিজেল ও ১৯ হাজার লিটার অকটেন লাগে। এর বাইরে ডেটা সেন্টার ও সুইচিং অবকাঠামোর জন্য আরও ২৭ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। একটি ডেটা সেন্টার সচল রাখতে ঘণ্টায় ৫০০ থেকে ৬০০ লিটার জ্বালানি খরচ হচ্ছে।

অপারেটররা বলছে, স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়া এবং পরিবহন জটিলতার কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ফিডারে টেলিকম অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার না দেওয়ায় সেবা সচল রাখা ব্যাহত হচ্ছে। ঝড় ও দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাট পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছে।

নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রথমে গ্রামীণ এলাকায় নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়বে এবং পরে শহরাঞ্চলেও কল ড্রপ, ইন্টারনেট ধীরগতি ও সংযোগ বিচ্ছিন্নতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডেটা সেন্টার বন্ধ হয়ে গেলে এর প্রভাব দ্রুত পুরো নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়বে, কারণ এখান থেকেই সব ধরনের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

জনজীবনে বড় প্রভাবের শঙ্কা

নেটওয়ার্ক বিপর্যয় ঘটলে জরুরি সেবা, ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্স, ই-কমার্স এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। বর্তমানে দেশে সাড়ে ১৮ কোটির বেশি মানুষ মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় থাকায় এর প্রভাব হবে ব্যাপক।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় অ্যামটব ডেটা সেন্টার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, মোবাইল টাওয়ারে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ, ডিপো থেকে সরাসরি জ্বালানি সরবরাহ এবং জ্বালানি পরিবহনে বাধাহীন সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

সরকারের অবস্থান

বিটিআরসি জানিয়েছে, টেলিযোগাযোগ একটি জরুরি সেবা হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। তবে মাঠপর্যায়ে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।

Link copied!