ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার, হবে জেল-জরিমানা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

অনুমতি ছাড়া ব্যক্তির ভিডিও ধারণ ও তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার। ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে এ ধরনের কাজ করলে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এর আওতায় দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা হবে এবং তদন্ত সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকবে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ তথ্য জানান। নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর প্রশ্নের প্রেক্ষিতে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রশ্নে সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, অনেকেই ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে মানুষের অজান্তে ভিডিও ধারণ করে তা আকর্ষণীয় শিরোনামে অনলাইনে প্রকাশ করছেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে। এসব অনিয়ম প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান তিনি।

জবাবে মন্ত্রী জানান, গত ১০ এপ্রিল পাস হওয়া ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এর ধারা ২৫(১) অনুযায়ী, ডিজিটাল মাধ্যমে কাউকে ব্ল্যাকমেইল, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন বা সেক্সটরশনের উদ্দেশ্যে কোনো তথ্য বা ভিডিও প্রকাশ বা প্রকাশের হুমকি দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আইনের ধারা ২৫ (২) অনুযায়ী, এ অপরাধে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে। তবে ভুক্তভোগী যদি নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সি শিশু হন, তাহলে শাস্তি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ভিডিও দেখিয়ে অর্থ দাবি করলে তা ধারা ২২ অনুযায়ী সাইবার প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে, যার জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।

মন্ত্রী আরও জানান, আইনের ধারা ৮ অনুযায়ী জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার নির্দেশ দিতে পারবেন এবং এ ক্ষেত্রে বিটিআরসি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। জরুরি পরিস্থিতিতে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের সুযোগও রাখা হয়েছে।

সাইবার অপরাধ দ্রুত শনাক্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও তুলে ধরেন তিনি। রিয়েল-টাইমে ক্ষতিকর কনটেন্ট চিহ্নিত করতে ‘সিকিউরিটি অর্কেস্ট্রেশন, অটোমেশন অ্যান্ড রেসপন্স (এসওএআর)’ এবং ‘এন্ডপয়েন্ট ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স (ইডিআর)’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

তদন্ত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। এর মাধ্যমে ভিডিওর উৎস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া কেউ বিদেশে অবস্থান করে এমন অপরাধ করলে ‘পারস্পরিক সহায়তা আইন, ২০১২’-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।