মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে আগারগাঁওস্থ কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব জনাব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
এছাড়াও নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, ওএসপি, এনপিপি, এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ, কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সামরিক ও অসামরিক অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা, নাবিক এবং অসামরিক ব্যক্তিবর্গের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ৪ জনকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক, ৪ জনকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক, ৩ জনকে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক এবং ৩ জনকে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক প্রদান করেন। মোট ১৪ জনকে পদক প্রদান করা হয়।
১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের সুবিশাল উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সম্ভাবনাকে সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে এই বাহিনী গঠনের প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে উপলব্ধি করে এর ‘আইনি ভিত্তি’ প্রণয়ন করেন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি এই বাহিনীর ভিত্তি স্থাপিত হয় এবং তার প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে ১৯৯৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে বাহিনীটি কার্যক্রম শুরু করে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের প্রতিটি সদস্য দেশের উপকূলীয় দুর্গম এলাকা, নদীপথ ও সমুদ্রসীমায় সার্বক্ষণিক উপস্থিতির মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নদী ও সমুদ্রপথ এবং উপকূলীয় এলাকায় জনসাধারণের জানমাল রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, মাদক পাচার রোধ, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এ বাহিনী অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোস্ট গার্ডকে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বাহিনীর বহরে তিনটি সার্ভেইলেন্স ড্রোন যুক্ত হয়েছে এবং নতুন জাহাজ সংযোজনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কোস্ট গার্ডের জনবল বৃদ্ধি করে ১০ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি অপারেশন সক্ষমতা বাড়াতে মেরিটাইম হেলিকপ্টার, নতুন জলযান এবং আধুনিক ড্রোন সংযোজনের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে মাল্টিরোল রেসপন্স ভেসেল ও অফশোর পেট্রোল ভেসেল নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে উচ্চগতির বুলেটপ্রুফ বোট সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা উপকূলীয় এলাকায় অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

