রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত যেকোনো দিন রায়ের তারিখ ঘোষণা করতে পারেন।
বুধবার (৩ জুন) মামলার আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এবং ১০টা ৫৭ মিনিটে তার স্ত্রী ও মামলার অপর আসামি স্বপ্না আক্তারকে আদালতের এজলাসে আনা হয়। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে বিচারক এজলাসে উঠলে শুনানি শুরু হয়। এর আগে দুই আসামিকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছিল।
শুনানির শুরুতে বিচারক মামলার ১৬ জন সাক্ষীর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, ভিডিও প্রমাণ ও বিভিন্ন আলামত আসামিদের সামনে উপস্থাপন করেন। এতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্তকরণ, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। পাশাপাশি অভিযোগ অনুযায়ী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন, সে বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।
পরে বিচারক সোহেল রানার কাছে তার কোনো বক্তব্য আছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমিও দোষ করছি, ডলারও দোষ করছে স্যার। আমাকেও সাজা দেন, সঙ্গে ওকেও দেন। ওকে কেউ দেখে নাই, ওরে ধরেন স্যার।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছাওয়াল আছে একটা। আমি ক্ষমা চাচ্ছি স্যার, আমাকে মাফ করে দেন। আরেকটা কথা, আমার বউ কোনো দোষ করেনি, সে নির্দোষ।’ এ সময় বিচারক তাকে থামিয়ে বলেন, ‘আপনারটা আপনি বলেন।’
এরপর আদালত স্বপ্না আক্তারের বক্তব্য জানতে চান। প্রথমে তিনি নীরব থাকলেও বিচারক তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘দরজা কেন খুলেননি, এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে চান কি না।’ একই সঙ্গে আদালত তাকে সতর্ক করে বলেন, ‘আপনার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যে শাস্তি তার হবে, একই শাস্তি আপনারও হবে।’ জবাবে স্বপ্না বলেন, ‘আমি কিছু করিনি স্যার, আমি নির্দোষ।’
দুই আসামির বক্তব্য রেকর্ড শেষে আদালত এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।
এর আগে, গতকাল এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেন আদালত। মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
পর্যায়ক্রমে আদালতে জবানবন্দি দেন ভিকটিমের মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন, কনস্টেবল রোমা আক্তার, কনস্টেবল শরীফ মিয়া, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী উপপরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. নাসাদ জাবিন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডকারী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ, এসআই রাশেদুল ইসলাম এবং তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান।


