ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সাইপ্রাসে এস আলমের সম্পত্তি জব্দ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ২৯, ২০২৬, ১০:২৬ এএম
মোহাম্মদ সাইফুল আলম। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও মোহাম্মদ সাইফুল আলম এবং তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি সম্পত্তি জব্দ করেছে সাইপ্রাসের কর্তৃপক্ষ। ব্যাংক জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে চলমান এক ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম ‘সাইপ্রাস মেইল’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইপ্রাসের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিট মোকাসের আবেদনের পর গত ১৯ মে নিকোসিয়া জেলা আদালত সম্পত্তি জব্দের আদেশ দেন। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে দুই দেশের পারস্পরিক আইনি সহযোগিতা প্রক্রিয়ার আওতায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সাইপ্রাসের পারেক্লিশা এলাকায় অবস্থিত সাইফুল আলমের একটি দুইতলা আবাসিক ভবন ক্রোক করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৮ বিলিয়ন ইউরো বা ৮০০ কোটি ইউরো বিদেশে পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন দেশে সম্পত্তি কেনায় বিনিয়োগ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি তদন্ত সংস্থার নথি অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পরিচালিত একটি বিস্তৃত কোম্পানি নেটওয়ার্ক ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের আওতায় রয়েছে জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ।

তদন্তকারীরা ২০১৬ সালে সাইফুল আলমের মালিকানাধীন সাইপ্রাসভিত্তিক কোম্পানি ‘এসিএলএআরই ইন্টারন্যাশনাল’ ছাড়াও সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস ও জার্সিতে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ট্রাস্ট ও কোম্পানির নেটওয়ার্ক পর্যালোচনা করছেন।

এদিকে সাইপ্রাসে সম্পত্তি জব্দের আদেশ জারির একদিন পর বাংলাদেশে একটি আদালত সাইফুল আলমসহ তার ১০ জন আত্মীয় ও সহযোগীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেন। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে এস আলম গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া প্রায় ৬০ লাখ ইউরোর ঋণের অর্থে ১৩৪টি বাস কেনার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগে এ সাজা দেওয়া হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সাইফুল আলমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছে, যার বড় অংশ পরে খেলাপি হয়ে পড়ে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এসব ঋণের অর্থ জটিল আন্তর্জাতিক কোম্পানি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে কিনা।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ায় দেশ থেকে ৮ বিলিয়ন ইউরোরও বেশি অর্থ পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, এই অর্থের একটি অংশ সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে সম্পদ হিসেবে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইফুল আলম। তার পক্ষে আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান কুইন ইমানুয়েল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তার সব আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বৈধ বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়িত এবং তার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলো ‘অন্যায্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।

ইতোমধ্যে সাইফুল আলম আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি সংস্থা আইসিএসআইডিতে এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তার দাবি, সম্পত্তি জব্দের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির লঙ্ঘন।

উল্লেখ্য, সাইফুল আলম ২০১৬ সালে সাইপ্রাসের বিতর্কিত ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ বা সিটিজেন-বাই-ইনভেস্টমেন্ট কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেন। পরবর্তীতে ব্যাপক বিতর্কের মুখে সাইপ্রাস সরকার ওই কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়। তবে নাগরিকত্ব প্রদানের অনিয়ম তদন্তে গঠিত নিকোলাটোস কমিটির প্রতিবেদনে সাইফুল আলমের নাম উল্লেখ করা হয়নি।