ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে উপস্থাপিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি জেলা প্রশাসকদের দেশের যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন।
তারেক রহমান বলেন, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি প্রশাসনের কোনো পদও স্থায়ী নয় এ বিষয়টি মাথায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়েছে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জনগণের দুর্ভোগ না বাড়িয়ে সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে সরকার কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যার পর মার্কেট ও শপিংমলে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সতর্কতা নিশ্চিত করতে ডিসিদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে সকালে সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ অনুষ্ঠিত সম্মেলনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় পথের দুপাশে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান এবং তিনি হাত নেড়ে সাড়া দেন।
চার দিনব্যাপী এই ডিসি সম্মেলন আগামী ৬ মে শেষ হবে। সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের মোট ৪৯৮টি প্রস্তাব উত্থাপিত হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবির জানান, এবারের সম্মেলন ৩ থেকে ৬ মে পর্যন্ত চলবে, যা আগের তুলনায় এক দিন বেশি। সম্মেলনে ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার কার্যক্রম জোরদার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, ই-গভর্ন্যান্স, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে।
সম্মেলন চলাকালে জেলা প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে কার্য-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
অতিরিক্ত সচিব আরও জানান, ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মোট ৩৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৩০টি কার্য-অধিবেশন এবং বাকি চারটি উদ্বোধনী, সৌজন্য সাক্ষাৎ ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনাসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা।
তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে পাওয়া ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৯৮টি কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রস্তাবে জনসেবা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ কমানো, সড়ক ও সেতু নির্মাণ, পর্যটন বিকাশ, আইন-বিধিমালা সংশোধন এবং জনস্বার্থ সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ৪৪টি প্রস্তাব এসেছে।
সম্মেলনের অংশ হিসেবে ৩ মে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে, ৪ মে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের সঙ্গে এবং ৫ মে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সূচি নির্ধারিত রয়েছে।


