মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আসন্ন বাজেটে স্বস্তির খবর আসতে পারে। পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য মোবাইল সেবায় আরোপিত এক শতাংশ সারচার্জ বাতিলের পাশাপাশি সিম কর কমানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। এতে মোবাইল গ্রাহকদের কলরেট ও ইন্টারনেট ব্যয়ে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র বলছে, ২০২২ সালে পদ্মা সেতু চালুর পরও মোবাইল সেবায় আরোপিত এক শতাংশ সারচার্জ বহাল রয়েছে। তবে আগামী বাজেটে এটি প্রত্যাহারের চিন্তা করছে সরকার। একই সঙ্গে বর্তমানে ৩০০ টাকা সিম কর কমানোর প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।
২০১৬ সালের মার্চে পদ্মা সেতু নির্মাণ ব্যয় মেটাতে মোবাইল সেবার ওপর এক শতাংশ সারচার্জ আরোপ করা হয়। বিশ্বব্যাংক প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ার পর সরকার নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণে এই পদক্ষেপ নেয়। বর্তমানে দেশে ১৮ কোটির বেশি মোবাইল সংযোগ ব্যবহারকারী প্রতি ১০০ টাকা রিচার্জে এক টাকা সারচার্জ দিচ্ছেন।
এ ছাড়া মোবাইল সেবায় সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাটসহ বিভিন্ন করের কারণে গ্রাহকদের খরচ বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ১০০ টাকা রিচার্জে একজন গ্রাহক কার্যত প্রায় ৫৮ টাকার সেবা পান বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি নতুন সিম কেনা বা রিপ্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে ৩০০ টাকা কর দিতে হয়।
মোবাইল অপারেটরদের দাবি, প্রস্তাবিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে গত ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো টেলিযোগাযোগ খাতে করের বোঝা কমবে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে সরকারকে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে অপারেটরগুলো, যার মধ্যে সারচার্জ বাবদ আদায় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতারাও গ্রাহক পর্যায়ে আরোপিত ৫ শতাংশ ভ্যাট শূন্যে নামানোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাউটার ও নেটওয়ার্কিং পণ্য আমদানিতে কর কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।
সরকারও টেলিকম খাতে করের ভার কমানোর বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কর কাঠামো যৌক্তিক করতে কাজ চলছে, যাতে ভোক্তা ও সেবাদাতা—উভয় পক্ষই উপকৃত হয়।


