ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযান

করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্য আটক, জিম্মি ৪ জেলে উদ্ধার

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্য আট। ছবি : সংগৃহীত

সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর দুই সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় তাদের জিম্মিদশা থেকে চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়।

রোববার (১৭ মে) সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সব বনদস্যু বাহিনী নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের ধারাবাহিক সফলতা হিসেবে ষষ্ঠবারের মতো ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর ২ জন সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করা হয়।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ থানাধীন সুন্দরবনের ঢাংমারী খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আজ রোববার (১৭ মে) ভোর ৪টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা কর্তৃক ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ডাকাত দল পালানোর চেষ্টা করলে আভিযানিক দল ধাওয়া করে একটি বিদেশি একনলা বন্দুক, দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ করিম শরীফ বাহিনীর দুজন সক্রিয় সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় আটককৃত ডাকাতদের কাছে জিম্মি থাকা চারজন জেলেকে উদ্ধার করা হয়।

আটককৃত ডাকাত মো. রবিউল শেখ (৩০) বাগেরহাট জেলার রামপাল থানা এবং রাজন শরীফ (২০) বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানার বাসিন্দা। রাজন শরীফ-করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। 

উল্লেখ্য, রাজন শরীফের বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে।

জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটককৃত ডাকাতদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।