বাংলাদেশ থেকে চলতি বছরে আরও ৬ হাজার চালক নিয়োগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দুবাইভিত্তিক একটি ট্যাক্সি কোম্পানি। রোববার (১৭ মে) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ আগ্রহের কথা জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি দল।
বৈঠকে মন্ত্রী প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশি দক্ষ চালকদের প্রতি তাদের আস্থার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও যেন এই নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকে, সে বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
এ সময় মন্ত্রী প্রশিক্ষণকালীন সময়ে কর্মীদের বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করার জন্য দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানিকে অনুরোধ জানান। পাশাপাশি শুধু চালক নয়, বাংলাদেশ থেকে ডাক্তার, নার্সসহ বিভিন্ন পেশাজীবী কর্মী নিয়োগের দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে তাদের প্রতিষ্ঠানে বিশ্বের ২৭টি দেশের প্রায় ১৫ হাজার কর্মী ট্যাক্সি ও লিমুজিন চালক হিসেবে কাজ করছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮ হাজারই বাংলাদেশি। পরিশ্রম ও দক্ষতার কারণে বাংলাদেশি কর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয় বলেও তারা উল্লেখ করেন। এমনকি দুবাই বিমানবন্দরে বাংলাদেশি নারীরাও সফলভাবে ড্রাইভিং পেশায় কাজ করছেন বলে জানান তারা।
প্রতিনিধি দলের তথ্য অনুযায়ী, আগামীকাল থেকে বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নতুন চালক বাছাইয়ের জন্য সাক্ষাৎকার কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০০ চালক নেওয়া হবে এবং পুরো বছরে মোট ৬ হাজার চালক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, দুবাই যেতে একজন চালকের অনেক বেশি খরচ হয়, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দরিদ্র শ্রমিকদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই ঋণ নিয়ে বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তাই অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে ১ লাখ টাকার মধ্যে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই কোম্পানির জন্য কর্মী পাঠানোর অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি ‘আল আনাস ওভারসিজ’-এর প্রতিনিধিরা জানান, চালকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ক্লিনার, মেকানিক ও টেকনিশিয়ান নিয়োগের বিষয়েও তারা আগ্রহী। এ ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
সাক্ষাৎকালে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


