× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ১১:০৬ এএম

বাজেট ২০২৬-২৭

যেসব পণ্যের দাম কমবে ও বাড়বে

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ১১:০৬ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা, স্থানীয় শিল্পের সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বাণিজ্যকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করতেই বেশকিছু পণ্যের মূল্য কমতে এবং বাড়তে পারে। নিচে সংক্ষেপে যেসব পণ্যের দাম কমতে এবং বাড়তে পারে তার একটি তালিকা দেওয়া হলো।

অন্যদিকে, কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সুখবর আসছে। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সব ধরনের ভ্যাট ও কর প্রত্যাহার করা হতে পারে। বর্তমানে তাদের ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট ও ৭ শতাংশ আয়কর প্রযোজ্য রয়েছে।

কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম

* দেশীয় শিল্পের সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশে উৎপাদিত টেলিভিশন, এসি, ফ্রিজ ও হাউসহোল্ড পণ্যের ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হচ্ছে। এনবিআর সূত্র জানায়, এই খাত থেকে সরকার পাঁচ থেকে ছয়শ কোটি টাকা ভ্যাট পায়। ভ্যাট ১৫ শতাংশ করার পরও রেয়াতের কারণে রাজস্ব আদায় বাড়েনি, বরং আগের মতোই রয়েছে। তাই ভ্যাট কমানোর পাশাপাশি এসব পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতেও শুল্ককর ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে, যার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে। ফলে দেশে তৈরি ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম কমবে।

* ওষুধের দাম কিছুটা কমবে। এ ছাড়া, হার্টের রিং ও চোখের লেন্সের ওপর থেকে ১০ শতাংশ ভ্যাট এবং ক্যান্সারের নয় ধরনের ওষুধ আমদানিতে কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হতে পারে। ফলে এই চিকিৎসাসামগ্রীগুলোর দামও কমবে।

* ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল ও বীজসহ ৬০টি পণ্যের উৎসে কর ৫, ২ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হতে পারে। ভোক্তা পর্যায়ে এসব পণ্যে কোনো ভ্যাট নেই। এ ছাড়া, আমদানি করা শিশুখাদ্যের দাম কমাতেও শুল্ক-করে ছাড় আসতে পারে।

* স্থানীয়ভাবে তেলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদনের ওপর করহার আগামী ১০ বছর পর্যন্ত অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। ফলে এই খাতে নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

* পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে করছাড় ২০৩০ সাল পর্যন্ত এবং সৌর বিদ্যুতের সব ধরনের উপকরণ আমদানিতে শুল্ককর অব্যাহতি ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এ ছাড়া, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০৩৫ সাল পর্যন্ত করমুক্ত রাখা এবং সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিদ্যুৎ বিলে ৫ শতাংশ রেয়াত দেওয়া হতে পারে। ফলে সৌর বিদ্যুতের উপকরণের দাম কমবে।

* স্থানীয়ভাবে ইলেকট্রিক গাড়ি ও ই-বাইক উৎপাদনে কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হতে পারে। ইলেকট্রিক গাড়ির রেজিস্ট্রেশনে অগ্রিম আয়কর ২ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে গাড়ির কিলোওয়াট অনুযায়ী ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া, ১৮०० সিসি পর্যন্ত নতুন হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি) প্রত্যাহার হতে পারে। ফলে হাইব্রিড ও ইলেকট্রিক গাড়ির দাম কমবে এবং জ্বালানি তেলের ওপর চাপ কমবে।

* কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্ল্যাশ মেমোরি ও মনিটর আমদানির যন্ত্রাংশে অগ্রিম কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হতে পারে। দেশে উৎপাদিত ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মনিটর ও মোবাইলের ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এ ছাড়া, স্থানীয় মোবাইল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ২২টি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর ৫ ও ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে। ফলে দেশে তৈরি কম্পিউটার সামগ্রী ও মোবাইল সেটের দাম কমতে পারে।

* স্বর্ণ বিক্রিতে বর্তমানে প্রযোজ্য ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে প্রতি ভরিতে নির্দিষ্ট হারে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হতে পারে। বর্তমান দাম অনুযায়ী ১২-১৩ হাজার টাকা ভ্যাট দিতে হয়। এ ছাড়া, এই খাত থেকে বছরে ১৫০ কোটি টাকা ভ্যাট আদায় হলেও ভ্যাট নির্দিষ্ট করার শর্তে বাজুস বছরে অন্তত ৪০০ কোটি টাকা ভ্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি এই খাতের উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং টার্নওভার কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করা হতে পারে। এতে স্বর্ণালঙ্কারের দাম কমতে পারে।

* কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ৫ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহার হতে পারে, যার ফলে ডায়ালাইসিস খরচ প্রতিবারে ৬০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। 

• ১৫টি আমদানি করা পণ্যের অগ্রিম কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১-২ শতাংশ করা হতে পারে।

  • মোবাইল সিমের ওপর থাকা ৩০০ টাকা কর বাতিল হতে পারে, ফলে সিমের দাম কমবে।
  • বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র আমদানির ৫ শতাংশ শুল্ককর এবং এটিএম কার্ডসহ সব ধরনের কার্ড তৈরির কাঁচামাল আমদানির ৫ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহার হতে পারে। পাশাপাশি ১১৩টি পণ্যের ওপর থেকে ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার হতে পারে।
  • মর্চুয়ারি আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে।
  • সেমি কন্ডাক্টর খাতের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কছাড় ২০৩১ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং টাগবোট আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে।
  • বালাইনাশক উৎপাদনের ৩৬ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে ভ্যাট প্রত্যাহার এবং প্যাকেজিং ম্যাটেরিয়াল সরবরাহের উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হতে পারে।
  • লোশন, ফেস ক্রিম ও ফেসওয়াশ আমদানিতে কেজি প্রতি শুল্ক ২০ ডলার থেকে কমিয়ে ৭ ডলার এবং লিপস্টিক আমদানিতে শুল্ক ৪০ ডলার থেকে কমিয়ে ৩০ ডলার করা হতে পারে।

যেসব বিদেশি পণ্যের দাম বাড়তে পারে

  • দেশে বাণিজ্যিকভাবে কাজু বাদাম চাষ শুরু হওয়ায় দেশীয় ফলের সুরক্ষায় কাজু বাদাম আমদানিতে শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে। এ ছাড়া, পাঙাস মাছের ফিলেট আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং উচ্চ মূল্যের দামি হিমায়িত মাছ আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বসানো হতে পারে।
  • সিগারেটের দাম প্যাকেট প্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা বাড়তে পারে। এ ছাড়া, খুচরা ব্যবসায়ীদের হাজারে ২ টাকা অগ্রিম কর দিতে হবে। গুল ও জর্দাতেও কর বাড়ছে। সিগারেটের ফিল্টার তৈরির পেপার আমদানিতে ৩০০ শতাংশ ও নিকোটিনে ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং নিকোটিন পাউচে ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানো হতে পারে।
  • দেশীয় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মদে প্রতি লিটারে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা সুনির্দিষ্ট ভ্যাট বসানোর পরিকল্পনা করছে এনবিআর। এ ছাড়া, আমদানি করা বিদেশি মদের দামও বাড়তে পারে, যেগুলোতে বর্তমানে ব্র্যান্ডভেদে ৪৫০ থেকে ৬০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক-কর রয়েছে।
  • দেশে মাইল্ড স্টিল (এমএস) এবং এ জাতীয় পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে। ফলে রডের দাম বাড়তে পারে।
  • বিদেশি প্রসাধনী, বিলাসী পণ্য, আমদানি করা উচ্চমূল্যের খাদ্যপণ্য এবং নতুন ১০টি পণ্যের আমদানি পর্যায়ে ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের কারণে এগুলোর দাম বাড়তে পারে।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!