× UCB Sticker Card
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীরকে যেভাবে দেশে ফেরত আনা হবে!

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ এবং আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে গ্রেপ্তার হলেও এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—কবে এবং কীভাবে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে বিষয়টি ইন্টারপোলে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে।

রেড নোটিশে কী ছিল?

ইন্টারপোলের রেড নোটিশে বেনজীর আহমেদকে বিচার এড়াতে পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। নোটিশে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পলাতক ব্যক্তি হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়।

দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় ১১ কোটি ৪২ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের চেষ্টা করেছেন। এর মধ্যে অন্তত ২ কোটি ৮২ লাখ টাকার সম্পদ সম্পূর্ণভাবে আড়াল করার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে প্রায় ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মালিকানা ও ভোগদখলের অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে। তদন্ত প্রতিবেদনে অবৈধ আয়ের একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

দুবাইয়ে যেভাবে ধরা পড়ে

পুলিশ সদরদপ্তর সূত্রের দাবি অনুযায়ী, লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিটে নামেন বেনজীর আহমেদ। বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি তার মুখমণ্ডল শনাক্ত করে।

এরপর আন্তর্জাতিক অপরাধী ডেটাবেজের সঙ্গে তথ্য মিলে যাওয়ায় সতর্কতা সংকেত পায় ইন্টারপোল। পরবর্তী যাচাই শেষে দুবাই পুলিশ তাকে আটক করে এবং পরে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখায়। যদিও এ বিষয়ে দুবাই পুলিশ বা ইন্টারপোলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

রেড নোটিশ মানেই কি প্রত্যর্পণ?

রেড নোটিশ কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়। এটি মূলত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে একজন পলাতক ব্যক্তিকে শনাক্ত ও সাময়িকভাবে আটক করার অনুরোধ। তাই রেড নোটিশের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হওয়া গেলেও কাউকে নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দেশের আদালত ও সরকারের হাতে থাকে। ফলে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এখনো বাকি।

কীভাবে দেশে ফেরানো হবে?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে।

এ জন্য আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন, অপরাধের বিবরণ, সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এসব নথি যাচাইয়ের পর বিষয়টি দেশটির আদালতে উঠতে পারে।

আদালত তখন যাচাই করবে, যে অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশ তাকে ফেরত চাইছে, সেই অপরাধ ইউএইর আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় কি না। আন্তর্জাতিক আইনে এটিকে ‘ডুয়াল ক্রিমিন্যালিটি’ বলা হয়।

কেন সম্ভাবনা বেশি?

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বেনজীর আহমেদকে ফেরানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান আগের অনেক মামলার তুলনায় শক্তিশালী।

প্রথমত, তিনি ইতোমধ্যে ইউএই কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন। দ্বিতীয়ত, তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো রাজনৈতিক নয়, বরং দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ ও অর্থ পাচারের মতো আর্থিক অপরাধসংক্রান্ত। তৃতীয়ত, তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং অন্তত একটি মামলায় অভিযোগপত্র রয়েছে।

এসব কারণে প্রত্যর্পণ অনুরোধ আইনি ভিত্তিতে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যেসব বাধা আসতে পারে

তবে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া একেবারেই সহজ হবে না। বেনজীর আহমেদ ইউএই আদালতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে পারেন। তার আইনজীবীরা দাবি করতে পারেন, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অথবা দেশে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন না।

এ ছাড়া আপিল, উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ এবং অন্যান্য আইনি জটিলতা পুরো প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করতে পারে।

কতদিন লাগতে পারে

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, যদি ইউএই কর্তৃপক্ষ দ্রুত সহযোগিতা করে এবং আসামিপক্ষ বড় ধরনের আইনি আপত্তি না তোলে, তাহলে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে প্রত্যর্পণ সম্ভব হতে পারে।

স্বাভাবিক বিচারিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আর যদি দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হয়, তাহলে প্রক্রিয়াটি এক থেকে দুই বছর বা তারও বেশি সময় গড়াতে পারে।

প্রত্যর্পণের আইনি ভিত্তি রয়েছে

বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যে অপরাধী বা বন্দি প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তি বিদ্যমান রয়েছে। ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর দুবাইয়ে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

এই চুক্তির আওতায় গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এক দেশ থেকে অন্য দেশে হস্তান্তরের সুযোগ রয়েছে।

ইন্টারপোলের রেড নোটিশ বা দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে কোনো অপরাধীকে আটক করা হলে, এই চুক্তির অধীনেই তাকে ফেরত পাওয়ার আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়।

তবে ইউএই-এর প্রত্যর্পণ আইনের নিয়ম অনুযায়ী, হস্তান্তরের অনুরোধটি যদি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার পরিপন্থী হয়, তবে তারা সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে পারে। এছাড়া সাধারণত রাজনৈতিক প্রকৃতির কোনো মামলার আসামিকে এই চুক্তির আওতায় হস্তান্তরে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এই চুক্তির আওতায় বেশ কয়েকজন অপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফিরিয়ে আনাদের মধ্যে রয়েছেন- নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ খান হত্যা মামলার আসামি আরিফ সরকার ও মহসিন মিয়া।

গত বছরের জুলাই মাসে মহসিন মিয়াকে এবং আরিফ মিয়াকে গত মে মাসে ইন্টারপোল ও দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ ব্যবস্থার মাধ্যমে দুবাই থেকে সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে আনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথভাবে উপস্থাপন করা গেলে এবং কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা আগের অনেক আলোচিত পলাতক আসামির তুলনায় বেশি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত ও প্রশাসনের ওপর।

Link copied!