পর্তুগালের লিসবনে অবস্থিত আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক (একেডিএন)-এর কূটনৈতিক প্রতিনিধি ফারুক এস. আদাতিয়া, কেসি—পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাতের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে ফারুক এস. আদাতিয়া ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির পুনরুজ্জীবনের প্রশংসা করেন। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের পরবর্তী সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচিত হওয়া এবং এর আগে ইউনেস্কো সাধারণ সম্মেলনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য উষ্ণ অভিনন্দন জানান।
তিনি দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সদিচ্ছা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে একেডিএনের দৃঢ় আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এ প্রেক্ষাপটে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন সরকারের নির্ধারিত অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেসরকারি খাতের অর্থায়নের সুযোগ অন্বেষণের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশে কমিউনিটি পর্যায়ে আগা খান নেটওয়ার্কের অবদানের প্রশংসা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বাংলাদেশের নতুন ও দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতির কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেট অগ্রাধিকারের বিষয়টি তুলে ধরে একেডিএন কোন কোন ক্ষেত্রে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
মেয়েদের শিক্ষা ও নারী ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে একেডিএনের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি গ্রামীণ নারীদের কেন্দ্র করে ‘সৃজনশীল অর্থনীতির’ সম্ভাবনা এবং তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেন।
এছাড়া বৈঠকে শিক্ষা পাঠ্যক্রম আধুনিকীকরণ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, আগা খান একাডেমির ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা ও নার্সিং পেশাজীবী প্রশিক্ষণ এবং রোহিঙ্গা মানবিক ইস্যুতে একেডিএনের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও মনোযোগ ও সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
উভয় পক্ষ পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে মহামান্য আগা খান পঞ্চম-এর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন।
এর আগে, একেডিএন প্রতিনিধিদল পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করে।

